বগুড়া সদর উপজেলার আশোকোলা এলাকায় সাইফুল ইসলাম নামে নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের এক সাবেক সদস্যকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (২৩ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে আশোকোলা সেতুর কাছে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় জড়িত তিন যুবককে শনাক্ত করেছে পুলিশ। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
নিহত সাইফুল ইসলাম নুনগোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য। পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার রাতে স্থানীয় বাঘোপাড়া বাজারে কয়েকজনের সঙ্গে চা পান শেষে এক ভাতিজাকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন সাইফুল ইসলাম।
পথে আশোকোলা সেতুর কাছে পৌঁছালে তিন যুবক তাদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। এ সময় সাইফুল ইসলাম মোটরসাইকেল থামিয়ে ওই যুবকদের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। তাদের সঙ্গে আগে থেকেই সাইফুল ইসলামের পরিচয় ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ ও স্বজনরা।
কথাবার্তার একপর্যায়ে সাইফুল ইসলামের সঙ্গে ওই তিন যুবকের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে তিন যুবক ধারালো অস্ত্র বের করে তাকে রাস্তার পাশের একটি জমির দিকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তারা দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
আহত অবস্থায় সাইফুল ইসলামকে পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা এগিয়ে আসেন। পরে তাকে উদ্ধার করে দ্রুত বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে হাসপাতালে নেওয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হামলার সময় সাইফুল ইসলামের সঙ্গে থাকা ভাতিজার বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি। তবে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহিম আলী জানান, হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন যুবকের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।
পুলিশ বলছে, হত্যাকাণ্ডের পেছনে কী কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পূর্বপরিচিত ওই যুবকদের সঙ্গে সাইফুল ইসলামের কী ধরনের বিরোধ ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে জানার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ধারালো অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়েও কাজ করছে পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়দের মধ্যেও এ হত্যাকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের ভূমিকা তদন্ত শেষে আরও স্পষ্ট হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তাদের গ্রেপ্তারের পর জিজ্ঞাসাবাদ করলে হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে ধারণা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।