যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির হুমকির জবাবে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা জারি করেছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে সর্বকালের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানানোর পর পাল্টা জবাব দিল তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজ চলাচলে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
সম্প্রতি বার্তা সংস্থা
মার্কিন হুমকির মুখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালি—কোনো স্থান দিয়েই এক ফোঁটা তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এমনকি এই অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যেকোনো দেশকে তারা শত্রুভাবাপন্ন পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে দেশটির নীতিমালা অমান্য করায় অন্তত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে ইরান।
উত্তপ্ত এই কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা ও সংকট নিরসনে তৎপরতা বাড়িয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলো। তেহরানে জরুরি সফরে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনকলের পর ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরানোর অংশ হিসেবে এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও তেহরান সফরের কথা রয়েছে।
অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম পরাশক্তি চীন। দীর্ঘকাল ধরে ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা দেশটি মার্কিন চাপ প্রয়োগের নীতির সমালোচনা করে জানিয়েছে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান আনবে না। বেইজিং নিজের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিয়েছে।