নেত্রকোণার মদন উপজেলায় মাদরাসাছাত্রীকে ধর্ষণের ফলে অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বহুল আলোচিত মামলায় অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বৈজ্ঞানিক প্রমাণের তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদনে ভুক্তভোগী শিশুর জন্ম দেওয়া নবজাতকের সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক আমান উল্লাহ মাহমুদী সাগরের ডিএনএ ৯৯.৯৯ শতাংশ হুবহু মিলে গেছে। আদালতের নির্দেশে ঢাকার সিআইডি ল্যাবে পাঠানো নমুনার এই চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামির পিতৃত্ব বৈজ্ঞানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি মো. নুরুল কবীর রুবেল জানান, এই সুনির্দিষ্ট বৈজ্ঞানিক প্রমাণের পর আসামির আর কোনো দ্বিমত বা প্রশ্ন তোলার সুযোগ অবশিষ্ট নেই। প্রযুক্তিগত ও আইনগতভাবে মামলাটি বিচার প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত এবং শিগগিরই পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত চার্জশিট দাখিল করবে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের পাঁচহার বড়বাড়ি গ্রামের একটি মহিলা কওমি মাদরাসার পরিচালক ও শিক্ষক আমান উল্লাহ সাগর ওই শিশুটিকে ধর্ষণ করেন। ভয়ভীতি দেখানোর কারণে শিশুটি প্রথমে মুখ না খুললেও শারীরিক পরিবর্তন দেখা দেওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ পায়। ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পরীক্ষার পর শিশুটি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়। এই ঘটনায় ২৩ এপ্রিল শিশুটির মা বাদী হয়ে মদন থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হলে র্যাব-১৪ ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং গত ৬ মে ময়মনসিংহের গৌরীপুর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক সাগরকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাকে তিন দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ। তদন্তের ধারাবাহিকতায় গত ১৭ মে ঢাকার সিআইডি কার্যালয়ে আসামি সাগরের ডিএনএ স্যাম্পল জমা দেওয়া হয়। গত ২ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটি সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একটি কন্যা সন্তান জন্ম দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে গত ২৮ জুলাই সিআইডির একটি দল সিলেটের সেফহোমে গিয়ে নবজাতকের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠায়। বর্তমানে সব আইনি প্রক্রিয়া ও সিআইডির ডিএনএ প্রতিবেদন যুক্ত হওয়ায় মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তির আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।