ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, এক ফোঁটা তেলও নয় মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ, ফেঁসে গেলেন মাদরাসা শিক্ষক সাগর ছয় মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ . ৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডব: নিহত অন্তত ৪৭ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ি: ৪৫ জাহাজের পণ্য জব্দের হুঁশিয়ারি ইরানকে একঘরে করতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, এক ফোঁটা তেলও নয়


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:৪৪ এএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ইরানের বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়ার পর পাল্টা কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরান বলেছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে কোনো তেলই রপ্তানি হতে দেবে না। এমনকি হরমুজ প্রণালি বা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ দিয়েও এক বিন্দু তেল রপ্তানি করা হবে না বলে জানিয়েছে দেশটি।

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়েও ইরান নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। ইরানের দাবি, তাদের নীতিমালা লঙ্ঘন করেছে ৪৫টি জাহাজ। এ পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও জোরদার হয়েছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির তেহরানে সফর করছেন। একই সময়ে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও হরমুজ প্রণালি নিয়ে আলোচনার জন্য ইরান সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে।

মার্কিন বাণিজ্যমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে নতুন আর্থিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছেন। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত দেশ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে চাপের মুখে ফেলা।

এর আগে বেসেন্ট ফিন্যান্সিয়াল টাইমসে লিখেছিলেন, ইরানের বিরুদ্ধে ভোর থেকেই ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ শুরু হবে এবং এটি শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে নেওয়া সবচেয়ে বড় আর্থিক আক্রমণ হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের এই হুমকির পর ইরানের মুদ্রা রিয়ালের ওপরও চাপ তৈরি হয়েছে। খোলাবাজারে এক ডলারের দাম ২০ লাখ রিয়ালে পৌঁছানোর কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর প্রধান আসিম মুনির সোমবার তেহরানে পৌঁছেছেন। পাকিস্তানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তার সফরের উদ্দেশ্য আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে এগিয়ে নেওয়া। রয়টার্স জানিয়েছে, সফরের আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন এবং ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের প্রভাব কাজে লাগানোর অনুরোধ করেন।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত কয়েক সপ্তাহে সরাসরি সামরিক হামলা না হলেও উত্তেজনা কমেনি। গত জুনে দুই দেশ যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনায় বসেছিল। এরপর আর কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা হয়নি। এর মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ঘিরে একাধিক ঘটনা ঘটেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হওয়ায় এ প্রণালি ঘিরে যেকোনো সংকট আন্তর্জাতিক বাজারে তেল সরবরাহ ও দামের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে সৌদি আরবের বন্দর শহর ইয়ানবু থেকে পশ্চিমে একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলায় জাহাজটির মূল ডেকে আগুন ধরে যায়। তবে কারা এ হামলা চালিয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এর আগে ইরানের মিত্র হুতিরা হরমুজ প্রণালি এড়িয়ে সৌদি আরবের মাধ্যমে লোহিত সাগর দিয়ে যে তেল রপ্তানি করা হচ্ছে, সেগুলোতে বাধা দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানে হামলা শুরুর পর মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হয়। ইরানও পাল্টা উপসাগরীয় কয়েকটি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়। একই সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ে। রয়টার্সের বিশ্লেষণেও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে।

ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে বলেছেন, অর্থনৈতিক যুদ্ধ চলতে থাকলে ইরান কোনো তেল রপ্তানি করবে না। হরমুজ প্রণালি কিংবা পারস্য উপসাগরের অন্য কোনো পথ—কোথাও তেল পাঠানো হবে না। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক যুদ্ধে কোনো দেশ অংশ নিলে বা ওয়াশিংটনকে সহযোগিতা করলে সেটিকে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নেওয়া হিসেবে বিবেচনা করা হবে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, ইরানের অর্থনীতি ও আর্থিক ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পর্ক রাখা দেশগুলোকেও নতুন নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হতে পারে। বেসেন্ট সুনির্দিষ্টভাবে কোন দেশ বা প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হবে, তা প্রকাশ করেননি। তবে তার বক্তব্যে ইরানের বাণিজ্যিক অংশীদারদের ওপর চাপ তৈরির ইঙ্গিত স্পষ্ট।

চীন অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের এই চাপের কৌশলের বিরোধিতা করেছে। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা ও সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের নীতি কোনো সমাধান এনে দেবে না। বেইজিং নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। চীন দীর্ঘদিন ধরে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল ক্রেতাদের একটি। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মধ্যেও চীনের কিছু বেসরকারি শোধনাগার ইরানের তেল কিনে আসছে।

ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ এবং ইরানের পাল্টা তেল রপ্তানি বন্ধের হুমকিকে ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠেছে। একদিকে নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে ইরানের অর্থনীতিকে চাপে ফেলার চেষ্টা করছে ওয়াশিংটন, অন্যদিকে তেল রপ্তানি ও হরমুজ প্রণালিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার বার্তা দিচ্ছে তেহরান। এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে। রয়টার্সের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব মূল্যায়ন করতে গিয়ে তেলের বাজারে এখনো ঝুঁকির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর