ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

ইরানকে একঘরে করতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৫ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৯:১৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির হুমকির জবাবে কড়া হুঁশিয়ারি বার্তা জারি করেছে ইরান। দেশটির অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বাণিজ্য অংশীদারদের লক্ষ্য করে সর্বকালের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক আক্রমণের প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানানোর পর পাল্টা জবাব দিল তেহরান। ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, অর্থনৈতিক যুদ্ধ শুরু হলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি দিয়ে তাদের অনুমতি ছাড়া যেকোনো জাহাজ চলাচলে নতুন নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।

সম্প্রতি বার্তা সংস্থা রয়টার্স-এর এক প্রতিবেদনে উঠে আসে মার্কিন অর্থ দপ্তরের নতুন পদক্ষেপের কথা। মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ঘোষণা করেন, তেহরানের ওপর সবচেয়ে বৃহৎ আর্থিক আক্রমণ চালানো হবে, যাকে তিনি ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পরপরই আন্তর্জাতিক খোলাবাজারে ডলারের বিপরীতে ইরানি রিয়ালের চরম দরপতন ঘটে এবং এক ডলারের বিনিময় মূল্য গিয়ে ঠেকে ২০ লাখ রিয়ালে। মার্কিন অর্থমন্ত্রী সতর্ক করে বলেছেন, যেসব দেশ বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান ইরানের অর্থনীতি ও অর্থ ব্যবস্থার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকবে, তাদের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হবে।

মার্কিন হুমকির মুখে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা। ইরানের সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ে এক বিবৃতিতে স্পষ্ট জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এই অর্থনৈতিক লড়াই অব্যাহত থাকলে পারস্য উপসাগর বা হরমুজ প্রণালি—কোনো স্থান দিয়েই এক ফোঁটা তেল রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। এমনকি এই অর্থনৈতিক প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া যেকোনো দেশকে তারা শত্রুভাবাপন্ন পক্ষ হিসেবে বিবেচনা করবে বলে জানান তিনি। এরই মধ্যে দেশটির নীতিমালা অমান্য করায় অন্তত ৪৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ চিহ্নিত করার কথা জানিয়েছে ইরান।

উত্তপ্ত এই কূটনৈতিক পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতা ও সংকট নিরসনে তৎপরতা বাড়িয়েছে আঞ্চলিক দেশগুলো। তেহরানে জরুরি সফরে পৌঁছেছেন পাকিস্তানের সামরিক প্রধান আসিম মুনির। ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি ফোনকলের পর ইরানকে পুনরায় আলোচনার টেবিলে ফেরানোর অংশ হিসেবে এই প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে বিশেষ সূত্রে জানা গেছে। এছাড়া হরমুজ প্রণালির উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরও তেহরান সফরের কথা রয়েছে।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এই সর্বাত্মক কৌশলের তীব্র বিরোধিতা করেছে বিশ্বমঞ্চের অন্যতম পরাশক্তি চীন। দীর্ঘকাল ধরে ইরানের তেলের বৃহত্তম ক্রেতা দেশটি মার্কিন চাপ প্রয়োগের নীতির সমালোচনা করে জানিয়েছে, এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা কোনো সমাধান আনবে না। বেইজিং নিজের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানিয়ে দিয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর