মাগুরার বহুল আলোচিত আট বছরের শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের ওপর শুনানি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। শুনানি শেষে হাইকোর্ট মামলাটির চূড়ান্ত রায় ঘোষণার জন্য দিন ধার্য করেছেন। বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই শুনানি শেষ হয়।
আদালতে আসামিপক্ষে রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী হাফিজুর রহমান খান দায়িত্ব পালন করেন এবং রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইমাম হোসেন তারেক। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক প্রধান আসামি হিটু শেখকে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের আদেশ বহাল থাকবে নাকি সাজা কমবে, তা নির্ধারণ হবে উচ্চ আদালতের এই রায়ের মাধ্যমে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, গত বছরের ৫ মার্চ রাতে মাগুরার নিজনান্দুয়ালী এলাকায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে পাশবিক নির্যাতনের শিকার হয় শিশু আছিয়া। বোনের শ্বশুর হিটু শেখ শিশুটিকে ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যার চেষ্টা চালান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আনা হলে পরবর্তীতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় নিহত আছিয়ার মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন এবং পুলিশ দ্রুত তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে।
পরবর্তী সময়ে ২০২৩ সালের ১৩ এপ্রিল পুলিশ চার্জশিট দাখিল করে এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে মাত্র ১৩ কার্যদিবসে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৯ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল হিটু শেখকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দেন এবং অন্য তিন আসামিকে খালাস প্রদান করেন। ফৌজদারি কার্যবিধি অনুযায়ী বিচারিক আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য নথিপত্র হাইকোর্টে পাঠানো হয়, যা পেপারবুক প্রস্তুতি ও যাচাই-বাছাই শেষে চূড়ান্ত শুনানির জন্য বেঞ্চে তালিকাভুক্ত হয়েছিল।