ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, এক ফোঁটা তেলও নয় মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ, ফেঁসে গেলেন মাদরাসা শিক্ষক সাগর ছয় মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ . ৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডব: নিহত অন্তত ৪৭ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ি: ৪৫ জাহাজের পণ্য জব্দের হুঁশিয়ারি ইরানকে একঘরে করতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

সালমান শাহ হত্যা মামলা: খলনায়ক ডনের ৭ দিনের রিমান্ড চায় সিআইডি


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৪:৩৪ পিএম

চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় পরিকল্পিতভাবে হত্যা করার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার খলনায়ক আশরাফুল হক ডন-এর সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছে মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডি পুলিশ। তিন কারণ দেখিয়ে এই রিমান্ড আবেদন করা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডি পুলিশের ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান গেল বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এ রিমান্ড আবেদন করেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) প্রসিকিউশন বিভাগের উপ-পরিদর্শক শাহ আলম জানান, ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) ধার্য করেছেন।

সিআইডির আবেদনে উল্লিখনীয় তিন কারণ: ১. মামলার ঘটনা অত্যন্ত আলোচিত ও চাঞ্চল্যকর। ভিকটিম দেশের অত্যন্ত জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। ভিকটিমের মা ১৯৯৬ সালে ঘটনার পর থেকেই নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি করে আসছেন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তৎপর রয়েছেন। এমতাবস্থায় সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে ডনকে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন। ২. আসামি ডন অত্যন্ত সুকৌশলী ও ধূর্ত প্রকৃতির। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনায় জড়িত অন্যান্য সহযোগী আসামিদের অবস্থান নির্ণয় করে গ্রেপ্তার করা সহজ হবে। ৩. ডনের বিরুদ্ধে বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তিনি বিভিন্ন কৌশলে বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তিনি কার ইন্ধনে এবং কী উদ্দেশ্যে দেশত্যাগের চেষ্টা করছিলেন, সেই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটনে তাকে রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

এর আগে গত ৯ আগস্ট হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ইমিগ্রেশন পুলিশ ডনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করে। ওই দিনই আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। পরবর্তীতে ১২ আগস্ট তার জামিন আবেদন করা হলে আদালত তা নাকচ করে দেন।

উল্লেখ্য, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহ। সে সময় তার বাবা প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরবর্তীতে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন জানানো হলে সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়। ওই বছরের ৩ নভেম্বর সিআইডি আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে 'আত্মহত্যা' উল্লেখ করে। ওই বছরের ২৫ নভেম্বর আদালত প্রতিবেদনটি গ্রহণ করেন। তবে বাদীপক্ষ এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা দায়ের করে।

দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক বাদীপক্ষের রিভিশন মঞ্জুর করে মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। আদালতের এই নির্দেশের পর ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় মামলাটি দায়র করেন।

মামলায় সালমান শাহর স্ত্রী সামীরা হকসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়েছে। অন্য আসামিরা হলেন— শিল্পপতি আজিজ মোহাম্মদ ভাই, লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ, ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস ছাত্তার, সাজু এবং রেজভি আহমেদ ফরহাদ। এছাড়া অজ্ঞাত পরিচয় আরও অনেককে আসামি করা হয়েছে।

মামলার অভিযোগে মোহাম্মদ আলমগীর উল্লেখ করেন, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সালমান শাহর পরিবার নিউ ইস্কাটনের বাসায় গিয়ে জানতে পারেন তিনি ঘুমাচ্ছেন। কিছুক্ষণ পর প্রডাকশন ম্যানেজার সেলিম ফোন করে জানান, সালমানের কিছু হয়েছে। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত বাসায় গিয়ে তাকে নিথর অবস্থায় দেখতে পান। সে সময় কয়েকজন বহিরাগত নারী তার হাত-পায়ে তেল মালিশ করছিলেন এবং পাশের কক্ষে সামীরার আত্মীয় রুবি বসেছিলেন। দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পথে সালমানের গলায় দড়ির দাগ এবং মুখমণ্ডল ও পায়ে নীলচে দাগ দেখতে পাওয়া যায়। পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বর্তমানে সালমানের বাবার মৃত্যুর পর তার মামা মামলাটি পরিচালনা করছেন। ইতোমধ্যে গত ২৪ মে আদালতের অনুমতিতে সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ২২ জুন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়। মামলাটিতে আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ রয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর