ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, এক ফোঁটা তেলও নয় মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ, ফেঁসে গেলেন মাদরাসা শিক্ষক সাগর ছয় মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ . ৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডব: নিহত অন্তত ৪৭ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ি: ৪৫ জাহাজের পণ্য জব্দের হুঁশিয়ারি ইরানকে একঘরে করতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

নুসরাত হত্যা মামলা: ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের চূড়ান্ত রায় পড়তে শুরু করেছেন হাইকোর্ট


  • আপলোড সময় : সোমবার ২৪ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১১:৪৩ এএম

অনলাইন রিপোর্টার

ফেনীর সোনাগাজীর বহুল আলোচিত ও হৃদয়বিদারক মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন), আপিল ও জেল আপিলের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা শুরু করা হয়েছে। আজ সোমবার সকাল ১০টা ৪০ মিনিট থেকে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কে এম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে আলোচিত এই মামলার রায় পড়া চলছে।

আদালতের এজলাস কক্ষে আসামিপক্ষে অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান, ব্যারিস্টার মাসুদ হোসেন দোলন ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির শুনানিতে উপস্থিত থেকে অংশ নেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল এবং তাঁর সাথে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির উপস্থিত ছিলেন। গত ২০ আগস্ট সোনাগাজীর এই চাঞ্চল্যকর মামলার ডেথ রেফারেন্স এবং আপিল শুনানির দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া সমাপ্ত হওয়ার পর হাইকোর্ট আজকের দিনটি রায় ঘোষণার জন্য চূড়ান্তভাবে ধার্য করেছিলেন।

এর আগে রাষ্ট্রপক্ষ পেপারবুক (মামলার যাবতীয় বৃত্তান্ত) থেকে তথ্য উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে হাইকোর্টে নুসরাত হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি শুরু করে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসংক্রান্ত জটিলতা এবং জনগুরুত্ব বিবেচনায় ডেথ রেফারেন্স, আপিল ও সংশ্লিষ্ট বিবিধ বিষয়াদি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিচারকার্য শেষ করতে গত ১০ জুন হাইকোর্টের বিশেষ এই দ্বৈত বেঞ্চ গঠন করে দেন প্রধান বিচারপতি। বিশেষ কার্যপরিধি নিয়ে গঠিত এই বেঞ্চটি গত ১৪ জুন থেকে মামলার নথি ধরে ধারাবাহিক শুনানি গ্রহণ করে।


মামলার বিবরণ ও নথিপত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ২০১৯ সালের ২৭ মার্চ ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা নিজ কক্ষে নুসরাত জাহান রাফিকে ডেকে নিয়ে শ্লীলতাহানি করেন। এই অন্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়ে নুসরাত থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ সিরাজ উদদৌলাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায়। পরবর্তীতে নুসরাতকে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হলেও তিনি নতি স্বীকার না করায় ২০১৯ সালের ৬ এপ্রিল মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্রের ছাদে কৌশলে ডেকে নিয়ে তাঁর হাত-পা বেঁধে গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। মারাত্মক দগ্ধ অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসারত অবস্থায় ওই বছরের ১০ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করেন সাহসী এই ছাত্রী।

অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ডের পর নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান (নোমান) সোনাগাজী থানায় একটি মামলা করেন, যা নুসরাতের করুণ মৃত্যুর পর পরবর্তীতে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়। ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল সংক্ষিপ্ত বিচারকাজ শেষে ২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলাসহ মোট ১৬ জন আসামিকে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করার আদেশ দেন আদালত।

এই মামলায় সর্বোচ্চ সাজাপ্রাপ্ত ১৬ জন আসামি হলেন—মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজ উদদৌলা, সোনাগাজী উপজেলা অওয়ামী লীগের তৎকালীন সভাপতি রুহুল আমিন, পৌরসভার কাউন্সিলর মাকসুদুল আলম, শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসার উদ্দিন, মাদ্রাসার ছাত্র নুর উদ্দিন, শাহাদাত হোসেন শামীম, সাইফুর রহমান, মোহাম্মদ যোবায়ের, জাবেদ হোসেন ওরফে সাখাওয়াত হোসেন জাবেদ, কামরুন নাহার মণি, উম্মে সুলতানা পপি ওরফে তুহিন, আবদুর রহিম শরিফ, ইফতেখার উদ্দিন রানা, ইমরান হোসেন মামুন, মোহাম্মদ শামীম এবং মহি উদ্দিন শাকিল।

আইনগত নিয়ম অনুযায়ী নিচ আদালতের মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদনের জন্য মামলাটি ২০১৯ সালের ২৯ অক্টোবর হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট ডেথ রেফারেন্স শাখায় নথিভুক্ত হয়ে পৌঁছায়, যা পরবর্তীতে ডেথ রেফারেন্স নম্বর ১৪০/১৯ হিসেবে তালিকাভুক্ত হয়। অপরাধের তীব্রতা ও জনস্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে দ্রুততম সময়ে এর পেপারবুক প্রস্তুত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই সাথে কারাবন্দী আসামিরাও নিচ আদালতের সাজা বাতিল চেয়ে পৃথক ফৌজদারি ও জেল আপিল দায়ের করেছিলেন, যা আজ হাইকোর্টের চূড়ান্ত রায়ের মাধ্যমে নিষ্পত্তির মুখ দেখতে যাচ্ছে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর