যশোরে ১৭ কোটি টাকা মূল্যের কথিত প্লাটিনাম বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে শরিফুল ইসলাম নামে এক যুবককে আটক করেছে যশোর জেলা পুলিশের সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম। পরে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
সোমবার (২৪ আগস্ট) শরিফুল ইসলামকে আদালতে হাজির করা হয়। এর আগে রোববার (২৩ আগস্ট) রাতে এ ঘটনায় ঝিকরগাছা থানায় মামলা করেন উপজেলার শিওরদাহ গ্রামের বাসিন্দা ও সিটি ব্যাংকের মোবাইল ব্যাংকিং সেবার এজেন্ট সোহরাব হোসেন পিন্টু।
মামলার পর এসআই দেবব্রত ঘোষের নেতৃত্বে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালায়। একপর্যায়ে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার আলিপুর গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, সোহরাব হোসেনের প্রতিষ্ঠানে মামুনসহ তিনজন কর্মচারী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে মামুন প্রায় তিন বছর ধরে সেখানে কর্মরত। গত ৭ আগস্ট পূর্বপরিচিত শরিফুল ইসলামের কাছ থেকে কথিত মূল্যবান ধাতব পদার্থের বিষয়ে জানতে পারেন মামুন।
শরিফুল দাবি করেন, তিনি ও তার কয়েকজন সহযোগী একটি মূল্যবান ধাতব পদার্থ পেয়েছেন। সেটি প্লাটিনাম এবং বাংলাদেশি বাজারে এর মূল্য প্রায় ১৭ কোটি টাকা বলেও জানানো হয়। কথিত ওই ধাতব পদার্থ বিক্রির জন্য একজন বিশ্বস্ত ক্রেতা প্রয়োজন বলেও মামুনকে জানান শরিফুল।
বিষয়টি পরে মামুন তার কর্মস্থলের মালিক সোহরাব হোসেনকে জানান। এরপর গত ১০ আগস্ট শরিফুলসহ কয়েকজন সোহরাব হোসেনের বাড়িতে যান। সেখানে কথাবার্তার একপর্যায়ে একটি ফোন নম্বরে যোগাযোগ করিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ফোনে যোগাযোগ করা ওই ব্যক্তিকে কথিত ধাতব পদার্থের ক্রেতা হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। তিনি নগদ টাকা দিয়ে বাড়ি থেকেই ধাতব পদার্থটি নিয়ে যাবেন বলে জানানো হয়। এতে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয় সোহরাব হোসেন ও মামুনের কাছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, কথিত ধাতব পদার্থটি সংগ্রহ করতে ৭২ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানানো হয়। পরে সেটি ১৭ কোটি টাকায় বিক্রি করে লাভের অর্থ ভাগাভাগির প্রলোভন দেখানো হয়। এই প্রস্তাবে রাজি হয়ে সোহরাব হোসেন ও মামুন বিভিন্ন মাধ্যমে টাকা সংগ্রহ করেন।
পরে তাঁরা শরিফুল ইসলামকে মোট ৬৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেন। টাকা দেওয়ার পর কথিত মূল্যবান ধাতব পদার্থ পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে থাকেন তাঁরা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে পুরো বিষয়টি নিয়ে তাঁদের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
গত ১৯ আগস্ট কথিত ধাতব পদার্থ আনতে সোহরাব হোসেন সাতক্ষীরায় যান। সেখানে শরিফুল ইসলাম তাকে একটি প্লাস্টিকের বক্স দেন। বক্সটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে খুলতে বলা হয়। শরিফুল সেখান থেকে চলে যাওয়ার পর বক্সটি নিয়ে বাড়িতে ফেরেন সোহরাব হোসেন।
বাড়িতে ফিরে প্লাস্টিকের বক্সটি খুলতেই চাঞ্চল্যকর বিষয়টি সামনে আসে। বক্সের ভেতরে প্লাটিনাম বা কোনো মূল্যবান ধাতব পদার্থের পরিবর্তে পাওয়া যায় একটি ইটের টুকরা। তখনই তিনি বুঝতে পারেন, কথিত প্লাটিনামের নামে বড় ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
এরপর প্রতারণার বিষয়টি জানিয়ে যশোরের পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলামের কাছে অভিযোগ করেন সোহরাব হোসেন। তাঁর অভিযোগের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন টিম তদন্ত শুরু করে।
তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করা হয়। পরে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে শরিফুল ইসলামকে আটক করা হয়। পুলিশি প্রক্রিয়া শেষে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এ ঘটনায় প্রতারণার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। কথিত প্লাটিনাম দেখিয়ে কীভাবে এত বড় অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের ভূমিকা কী ছিল, তদন্তে তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।