ফেনী প্রতিনিধি :
ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার। সোমবার দুপুরে উচ্চ আদালতের রায় ঘোষণার খবর শুনে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিরিন আক্তার সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলহামদুলিল্লাহ, আমি উচ্চ আদালতে ন্যায়বিচার পেয়েছি।’ মেয়ের হত্যা মামলার রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশের পাশাপাশি নিজের ও সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগের কথা জানান তিনি।
শিরিন আক্তার বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হত্যাকারীদের পক্ষ থেকে প্রচার করা হয়েছিল, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেছে। তবে উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে, নুসরাতকে হত্যা করা হয়েছে। এ রায়কে তিনি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে দেখছেন।
নুসরাতের মা আরও বলেন, তাকে ও তার সন্তানদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে তিনি তার তিন সন্তানের নিরাপত্তা চান। রায় ঘোষণার পরও পরিবারের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা থাকায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাদের মতে, উচ্চ আদালতের এ রায়ের মাধ্যমে নুসরাত হত্যা মামলায় কিছুটা হলেও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের বিচারব্যবস্থার ইতিহাসে এ রায় একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
তারা বলেন, নিম্ন আদালতে নুসরাত হত্যা মামলার ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার রায় নিয়ে সে সময় নানা ধরনের বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। উচ্চ আদালতের রায়ের মাধ্যমে সেই বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়েছে। এতে বিচারপ্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সম্পন্ন হলো।
স্থানীয়দের মতে, এ রায়ের মাধ্যমে বিচারকদের রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে আরও সতর্ক ও দায়িত্বশীল হওয়ার বার্তাও যাবে। তারা মনে করেন, যেকোনো মামলায় রায় দেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট সব তথ্য ও সাক্ষ্যপ্রমাণ আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বিচারাধীন মামলাগুলোর রায় দ্রুত দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের মতে, কোনো মামলার বিচার দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে বাদী ও আসামি—উভয় পক্ষের পরিবারই নানা ধরনের মানসিক ও সামাজিক চাপের মধ্যে থাকে।
তারা বলেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচারিক কার্যক্রম শেষ করে রায় দেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট পরিবারগুলোর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হয়। পাশাপাশি বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থাও আরও বাড়ে। এ কারণে বিচারাধীন গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর নিষ্পত্তি দ্রুত করার ওপর তারা গুরুত্ব দেন।
এদিকে নুসরাত হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে তার পরিবারের নিরাপত্তায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা অবস্থান করছেন। পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সোনাগাজীতে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
সোনাগাজী মডেল থানার এসআই পলাশ চন্দ্র রায় বলেন, ‘মামলার রায়কে কেন্দ্র করে এখানে বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পরিবারের নিরাপত্তার জন্য আমরা এখানে নিয়োজিত আছি।’
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পরিবারের নিরাপত্তায় সদস্য মোতায়েনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। রায়কে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলা দীর্ঘদিন ধরে দেশজুড়ে আলোচিত। তার পরিবারের সদস্যরা শুরু থেকেই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার দাবি করে আসছিলেন। উচ্চ আদালতের রায়ের পর পরিবার সন্তোষ প্রকাশ করলেও নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন নুসরাতের মা শিরিন আক্তার।