কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অঙ্গনের নান্দনিক পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। পুকুরের জলজ পরিবেশ সমৃদ্ধ করা এবং আদালত অঙ্গনের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৪ আগস্ট ২০২৬) সকালে আদালত অঙ্গনের পুকুরে রুই, কাতলসহ বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়। এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন কুমিল্লার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মোঃ হেমায়েত উদ্দিন নিজ হাতে পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্ত করেন। এ সময় আদালতের বিভিন্ন পর্যায়ের বিচারক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আদালত অঙ্গনের সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি পুকুরের জলজ পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাছের পোনা অবমুক্তের ফলে দীর্ঘদিনের নান্দনিক এ পুকুরে মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজননের সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
পোনা অবমুক্তকরণ শেষে উপস্থিত বিচারক ও কর্মকর্তারা আদালত অঙ্গনের পুকুর ও আশপাশের পরিবেশ ঘুরে দেখেন। এ সময় জলাশয়টির পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে প্রয়োজনীয় বিভিন্ন বিষয় নিয়েও আলোচনা করা হয়।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গুরুত্বপূর্ণ একটি সরকারি স্থাপনার অভ্যন্তরে জলাশয় ও সবুজ পরিবেশ সংরক্ষণের এ উদ্যোগ পরিবেশবান্ধব আদালত অঙ্গন গড়ে তুলতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে পুকুরে দেশীয় প্রজাতির মাছের পোনা অবমুক্তের মাধ্যমে জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে।
তারা আরও জানান, জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার মাধ্যমে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ। পুকুরে মাছের নিরাপদ বিচরণ নিশ্চিত করার পাশাপাশি পানির স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এ সময় আদালত অঙ্গনের পরিবেশ আরও সুন্দর ও পরিচ্ছন্ন রাখতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পুকুর ও আশপাশের পরিবেশ যাতে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকেও নজর রাখার কথা জানান সংশ্লিষ্টরা।
মাছের পোনা অবমুক্তের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালত অঙ্গনের নান্দনিক পুকুরটি আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে বলে প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিচারক ও কর্মকর্তারা।
তাদের মতে, পুকুরে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের বিচরণ জলাশয়ের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি এর জীববৈচিত্র্যও সমৃদ্ধ করবে। ফলে আদালত অঙ্গনের সামগ্রিক পরিবেশ আরও মনোরম ও প্রাকৃতিক হয়ে উঠবে।