বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ১৩ জেলেসহ এফবি বরকত নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি ট্রলার আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করেছে। তবে এখনো পাঁচ জেলের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে সাগরের গভীরে প্রবল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সাগরে ভাসমান অবস্থায় থাকা আট জেলেকে অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলার উদ্ধার করে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী ট্রলারডুবি ও আট জেলে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এফবি বরকত ট্রলারটি ১৩ জেলেকে নিয়ে শুক্রবার মাছ ধরার উদ্দেশ্যে সাগরে যায়।
তিনি বলেন, সোমবার দুপুরে সাগরে প্রবল ঢেউয়ের মধ্যে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে ডুবে যায়। পরে উদ্ধারকারী ট্রলারের সহায়তায় আট জেলেকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তবে পাঁচ জেলে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে তিনজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন মো. বেলাল, মো. নুর আলম ও মো. ইব্রাহিম। তিনজনই বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার বাসিন্দা। নিখোঁজ অপর দুই জেলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে এফবি জহুরা খাতুন নামের একটি ট্রলার সাগরে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা সাগরের বিভিন্ন এলাকায় অনুসন্ধান চালাচ্ছেন বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পাথরঘাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল জানান, বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির ঘটনায় পাঁচ জেলে নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ট্রলারডুবির ঘটনায় উদ্ধার হওয়া আট জেলে বর্তমানে নিরাপদে রয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে সাগরে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে নিখোঁজ পাঁচ জেলের সন্ধান না পাওয়ায় তাদের স্বজনদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সাগরে মাছ ধরার সময় বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল ঢেউয়ের কারণে প্রায়ই জেলেদের ঝুঁকির মুখে পড়তে হয়। এ ঘটনায় দ্রুত উদ্ধার অভিযান জোরদার করে নিখোঁজ জেলেদের সন্ধান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন স্বজন ও স্থানীয়রা।