বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে গিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে চার জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর পাওয়া যায়। তবে এখনো নিখোঁজ রয়েছেন আরও একজন। চারজনের মরদেহ উদ্ধারের খবরে বরগুনার পাথরঘাটায় স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরে কুয়াকাটা উপকূল থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার দক্ষিণে গভীর বঙ্গোপসাগরে উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে ‘এফবি বরকত’ নামের একটি মাছ ধরার ট্রলার ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারটিতে ১৩ জন জেলে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ট্রলারডুবির পর কয়েক ঘণ্টা সাগরে ভেসে থাকার পর অন্য একটি মাছ ধরার ট্রলারের জেলেরা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করেন। তবে দুর্ঘটনার পর ‘এফবি বরকত’ ট্রলারসহ পাঁচ জেলে নিখোঁজ হন। এরপর থেকে নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে চেষ্টা চালানো হচ্ছিল।
মঙ্গলবার দুপুরে নিখোঁজ পাঁচ জেলের মধ্যে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের খবর নিশ্চিত করেন কাওছার নামে এক জেলের চাচি সাথী বেগম। তিনি জানান, উদ্ধারকারীরা চার জেলের মরদেহ নিয়ে উপকূলের দিকে রওনা হয়েছেন। তবে নিখোঁজ অপর জেলের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
নিখোঁজ জেলেদের মধ্যে মো. বেলাল, মো. নুর আলম, কাওছার ও মো. ইব্রাহিমের নাম জানা গেছে। তাঁদের সবার বাড়ি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলায়। তবে চারজনের মরদেহ উদ্ধারের পরও নিখোঁজ পঞ্চম জেলের পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বরগুনা জেলা মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, শুক্রবার ১৩ জন জেলেকে নিয়ে ‘এফবি বরকত’ সাগরে মাছ ধরতে যায়। সোমবার দুপুরে আবহাওয়া খারাপ হয়ে সাগর উত্তাল হয়ে উঠলে ট্রলারটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
গোলাম মোস্তফা চৌধুরীর দাবি, নিখোঁজ পাঁচ জেলে ট্রলারের ব্রিজের ভেতরে ঘুমিয়ে ছিলেন। এ কারণে দুর্ঘটনার সময় তাঁরা ট্রলার থেকে বের হতে পারেননি। পরে অন্য একটি ট্রলারের জেলেরা আটজনকে জীবিত উদ্ধার করলেও ওই পাঁচজন নিখোঁজ থেকে যান।
এদিকে চার জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে পাথরঘাটার নিখোঁজ জেলেদের বাড়িতে শোকের মাতম শুরু হয়। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পরিবেশ। মরদেহগুলো কখন উপকূলে পৌঁছাবে, সে অপেক্ষায় রয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
পাথরঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল আলীম বলেন, চার জেলের মরদেহ উদ্ধারের খবর তাঁরাও পেয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার জন্য পুলিশ পাঠানো হয়েছে।
এদিকে এখনো নিখোঁজ থাকা জেলের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হচ্ছে। মরদেহগুলো উপকূলে পৌঁছানোর পর পরিচয় নিশ্চিত করে পরিবারের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।