মার্কিন কান্ট্রি মিউজিক কিংবদন্তি, খ্যাতনামা গীতিকার, অভিনেত্রী ও সমাজসেবী ডলি পার্টন আর নেই।
পরিবারের পক্ষে এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশভিলের ভ্যান্ডারবিল্ট-ইনগ্রাম ক্যানসার সেন্টারে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন এই সংগীত তারকা।
পার্টনের মুখপাত্র মার্সেল পারিসো জানান, সংক্ষিপ্ত কিন্তু কঠিন ক্যানসারের যুদ্ধের পর তিনি চিরবিদায় নেন।
টেনেসির পাহাড়ি অঞ্চলের এক দারিদ্র্যপীড়িত পরিবার থেকে উঠে এসে নিজস্ব গায়কী, অসাধারণ গান রচনা ও অনন্য ব্যক্তিত্বের জোর বিশ্ব সংগীতে অন্যতম জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী তারকা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন পার্টন। আমেরিকান সংগীতের ইতিহাসে তিনি এমন এক বিরল ব্যক্তিত্ব, যার জনপ্রিয়তা প্রজন্ম, ভৌগোলিক সীমা এবং রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে ছিল।
সংগীতে তার হাতেখড়ি হয়েছিল স্থানীয় গির্জায়, যেখানে তার নানা যাজক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতেন। মাত্র ১০ বছর বয়সে স্থানীয় টেলিভিশনে গান গেয়ে নিজের ক্যারিয়ার শুরু করেন তিনি। পরবর্তীতে ১৩ বছর বয়সে বিখ্যাত ‘গ্র্যান্ড ওল ওপ্রি’-তে পারফর্ম করার সময় কিংবদন্তি শিল্পী জনি ক্যাশ তাকে দর্শকদের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচয় করিয়ে দেন।
স্বতন্ত্র কণ্ঠ ও অসাধারণ গীতিকবিতার জন্য পরিচিত ডলি পার্টন তার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে শত শত কালজয়ী গান উপহার দিয়েছেন। তার রচিত ও পরিবেশিত বিখ্যাত গানের মধ্যে রয়েছে ‘জোলিন’, ‘কোট অব মেনি কালারস’, ‘নাইন্টু ফাইভ’ এবং ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’। বিশ্বজুড়ে তার সংগী অ্যালবাম ১০০ মিলিয়নেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পাওয়া ‘জোলিন’ গানটি পার্টনের ক্যারিয়ারে নতুন মোড় এনে দেয়। কান্ট্রি চার্ট ছাড়াও আন্তর্জাতিক পপ সংগীতে এটি ব্যাপক সাফল্য পায়। পরের বছর ১৯৭৪ সালে তিনি প্রকাশ করেন বিখ্যাত ব্যালাড ‘আই উইল অলওয়েজ লাভ ইউ’।
সংগীতের পাশাপাশি অভিনয়েও তিনি সমাদৃত ছিলেন। ১৯৮০ সালে ‘৯ টু ৫’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করে ব্যাপক প্রশংসা কুড়ান এবং এর শিরোনাম সংগীতের জন্য গ্র্যামি জয় করেন।
সংগীত ও অভিনয়ের বাইরে একজন দূরদর্শী ব্যবসায়ী ও সমাজসেবী হিসেবেও তিনি প্রতিষ্ঠিত ছিলেন। টেনেসিতে তার প্রতিষ্ঠিত জনপ্রিয় থিম পার্ক ‘ডলিউড’ স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ভূমিকা রেখে আসছে।
নিজের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ৫৫টি গ্র্যামি মনোনয়ন এবং ১১টি গ্র্যামি জয় করা পার্টন ছিলেন আমেরিকান সংগীতের অন্যতম সম্মানিত নারী শিল্পী।