ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ২৫ অগাস্ট ২০২৬,  ১০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
যুক্তরাষ্ট্রের হুমকিতে ইরানের হুঁশিয়ারি, এক ফোঁটা তেলও নয় মঙ্গলবার রাজধানীর যেসব মার্কেট ও দোকানপাট বন্ধ ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল পিতৃত্বের প্রমাণ, ফেঁসে গেলেন মাদরাসা শিক্ষক সাগর ছয় মাসে বন্ধ ৯৫ কারখানা, কর্মসংস্থান হারিয়েছেন প্রায় ৬২ হাজার শ্রমিক: সিপিডি রাজধানীতে ৫ হাজারের বেশি ইয়াবাসহ পল্লবী থানার এএসআই গ্রেপ্তার আলোচিত শিশু আছিয়া ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় হাইকোর্টের রায় আজ . ৯ জেলায় ঝোড়ো হাওয়াসহ বজ্রবৃষ্টির আভাস হাইতিতে রাতভর সশস্ত্র গ্যাংয়ের তাণ্ডব: নিহত অন্তত ৪৭ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কড়াকড়ি: ৪৫ জাহাজের পণ্য জব্দের হুঁশিয়ারি ইরানকে একঘরে করতে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করল যুক্তরাষ্ট্র

দিনে ১৩০ কোটি আয়

‘তোহ ফির আও’ ও চেনা সংলাপে প্রেক্ষাগৃহে আবেগের জোয়ার!


  • আপলোড সময় : বুধবার ১৯ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৩:৫৯ পিএম

২০০৭ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির পর মোহিত সুরি পরিচালিত ‘আওয়ারাপন’ সিনেমাটি বক্স অফিসে আশানুরূপ সাড়া ফেলতে পারেনি। প্রথম দিনে ছবিটির আয় ছিল মাত্র প্রায় ৭৯ লাখ রুপি, আর প্রথম সপ্তাহান্তে ভারতের নিট আয় দাঁড়িয়েছিল মাত্র ২ কোটি ৮৮ লাখ রুপি। তখন ছবিটিকে কেন্দ্র করে কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি তৈরির দূরতম সম্ভাবনাও ছিল না। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বদলাতে থাকে এর ভাগ্য। টেলিভিশন, শ্রোতাপ্রিয় গান আর সাধারণ দর্শকদের মুখে মুখে ফিরতে ফিরতে ‘আওয়ারাপন’ ধীরে ধীরে এক কাল্ট ক্লাসিকের মর্যাদা লাভ করে।


প্রায় দুই দশক বা দীর্ঘ ১৯ বছর পর সেই আলোচিত ছবির দ্বিতীয় কিস্তি ‘আওয়ারাপন ২’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পেয়েছে। তবে এবার ঘটে গেছে বিস্ময়কর ঘটনা; মুক্তির মাত্র তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী ছবিটির বক্স অফিস সংগ্রহ ছাড়িয়ে গেছে ১৩০ কোটি রুপি। ব্যর্থ একটি প্রথম কিস্তির দুই দশক পর এই অভূতপূর্ব বাণিজ্যিক সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে দর্শকদের হৃদয়ে জমা থাকা গভীর ‘নস্টালজিয়া’। তবে নির্মাতারা শুধু পুরোনো নাম ব্যবহার না করে প্রথম ছবির সবচেয়ে প্রাণবন্ত উপাদানগুলো যেমন—শিবম পণ্ডিত চরিত্র, নস্টালজিক সুর, চেনা সংলাপ, আবেগঘন মুহূর্ত এবং ইমরান হাশমির সেই চেনা বিষণ্ন মুখকে সুপুণ্যভাবে পর্দায় ফিরিয়ে এনেছেন।


‘আওয়ারাপন ২’-এর নির্মাতারা চাইলে একেবারেই নতুন কোনো গল্প ও চরিত্র নিয়ে আওয়ারাপন নামটি ব্যবহার করতে পারতেন, কিন্তু তারা সেই ঝুঁকিতে হাঁটেননি। তারা ইমরান হাশমিকেই শিবম পণ্ডিত চরিত্রে ফিরিয়ে এনেছেন, যা বাণিজ্যিকভাবে একটি দারুণ চাল হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। দর্শকরাও কেবল নতুন কোনো আওয়ারাপনের জন্য নয়, বরং দুই দশক ধরে বুকের গভীরে লালন করা সেই শিবমকে দেখতেই প্রেক্ষাগৃহে ছুটে গেছেন। ছবির শুরুতেই প্রথম কিস্তির সঙ্গে সম্পর্কিত ফ্ল্যাশব্যাক ও নানা ইঙ্গিত দর্শককে আলিয়া ও শিবমের সেই চেনা জগতে ফিরিয়ে নিয়ে যায়, ফলে নতুন করে চরিত্রের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করার প্রয়োজন পড়েনি। ২০০৭ থেকে ২০২৬ সাল—এই দুই সময়কে যুক্ত করার সবচেয়ে শক্তিশালী মানস-সেতু হয়ে উঠেছেন ইমরান হাশমি নিজেই।


ছবির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি এর কালজয়ী গান। ‘তোহ ফির আও’ ও ‘তেরা মেরা রিশতা’ শুধু সিনেমার গান হিসেবে থাকেনি, সাধারণ শ্রোতাদের ব্যক্তিগত জীবনের অংশ হয়ে উঠেছিল। দ্বিতীয় কিস্তিতে সেই গানগুলো নতুন আবেগে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোরেও সুর দুটি এমনভাবে ব্যবহার করা হয়েছে যাতে গল্প এগোনার সাথে সাথে দর্শকের আবেগ আরও ঘনীভূত হয়। এমনকি প্রচারণার অংশ হিসেবে মূল গানের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পাকিস্তানি গায়ক মুস্তফা জাহিদকে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নস্টালজিয়ার পারদ আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।


ছবির শুরুতেই শোনা যায় প্রথম পর্বের বিখ্যাত পঙ্‌ক্তি—‘তু না আলগ হ্যায়, তু না জুদা হ্যায়, পর তুঝমে ভি খুদা হ্যায়’। এরপর শিবম যখন তার প্রয়াত প্রেমিকা আলিয়ার নামে এক অচেনা শিশুর নাম রাখেন, কিংবা মানবতার প্রসঙ্গ টেনে বলেন ‘কিসি মাজলুম কো আজাদ করনে কা মতলব হ্যায় পুরি ইনসানিয়াত কো আজাদ করনা’—এসব সংলাপ পুরানো দর্শকদের ফিরিয়ে নিয়ে গেছে পুরোনো দিনে। তবে জোর করে নস্টালজিয়া না চাপিয়ে গল্প ও চরিত্রের স্বাভাবিক গতিতেই সেগুলোকে পরিবেশন করা হয়েছে।


‘আওয়ারাপন ২’ শুরু থেকেই নিশ্চিত হিট হবে এমনটি কেউ ভাবেনি। এমনকি শুরুর দিকে পরিবেশকদের মধ্যেও সংশয় ছিল। সানি দেওলের তারকাবহুল দেশভাগের ছবি ‘বাটওয়ারা ১৯৪৭’-এর মতো বড় সিনেমা একই সময়ে মুক্তি পেলেও বক্স অফিসে বাজিমাত করেছে ইমরান হাশমির এই ছবি। ২০০৭ সালে আওয়ারাপনকে কষ্ট করে দর্শক তৈরি করতে হয়েছিল, আর ২০২৬ সালে দাঁড়িয়ে ‘আওয়ারাপন ২’-এর জন্য দর্শক আগে থেকেই ব্যাকুল হয়ে প্রস্তুত ছিলেন। এর মাধ্যমে বলিউডের জন্য একটি বড় বার্তা তৈরি হলো—কোনো সিনেমা প্রেক্ষাগৃহে সাময়িক ব্যর্থ হলেই দর্শক তাকে ভুলে যায় না; সঠিক সময় ও সততার সঙ্গে স্মৃতির দরজায় নাড়া দিতে পারলে দুই দশক পরও তা ইতিহাস গড়তে পারে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর