চলতি বছরের সেপ্টেম্বরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল দেওয়ার পরিকল্পনা করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে পারিপার্শ্বিক সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজনে এটি অক্টোবরেও পেছাতে পারে। কমিশনের মূল লক্ষ্য চলতি বছরের শেষ নাগাদ অর্থাৎ ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা বলে জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ শেষে নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসিরউদ্দিন।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার জানান, আসন্ন বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা ও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের প্রধান উৎসব দুর্গাপূজাসহ নানা সামাজিক-ধর্মীয় উৎসবের বিষয়টি মাথায় রেখেই কমিশনকে নির্বাচনের সঠিক সময়সূচি নির্ধারণ করতে হচ্ছে। তবে সব বাধা কাটিয়ে যেকোনো মূল্যে চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার স্পষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি রয়েছে কমিশনের। সিইসি বলেন, আগামী নভেম্বরে যাতে শিক্ষার্থীদের বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত না হয়, সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানাচ্ছে ইসি। এই পরীক্ষা নভেম্বরের মধ্যে সম্পন্ন হলে বা কিছুটা সমন্বয় করা গেলে ডিসেম্বর থেকেই ভোটের আয়োজন করা সহজ ও সম্ভব হবে।
নির্বাচনের সুনির্দিষ্ট তারিখ চূড়ান্ত করার চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে সিইসি উল্লেখ করেন, সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকলেও আমাদের দেশে নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণের পুরো নিয়ন্ত্রণ কেবল নির্বাচন কমিশনের একার হাতে থাকে না। আগামী বছরের শুরুতে আবার এসএসসি পরীক্ষা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পারিপার্শ্বিক সব বিষয় ও রাষ্ট্রীয় সময়সূচি বিবেচনা করেই ইসিকে নির্বাচনের উপযুক্ত সময় বেছে নিতে হয়।
রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠকের বিস্তারিত বিষয়বস্তু সম্পর্কে সিইসি জানান, প্রায় ৪০ মিনিটের এই দীর্ঘ বৈঠকে নির্বাচন সম্পর্কিত নানা দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে একটি শতভাগ বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও সর্বজনগ্রাহ্য নির্বাচনে রূপ দিতে রাষ্ট্রপতির সার্বিক সহায়তা চেয়েছিল কমিশন। জবাবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন কমিশনকে সব ধরনের সহায়তার পূর্ণ আশ্বাস দিয়েছেন। রাষ্ট্রপতির মনোভাব ব্যক্ত করে সিইসি বলেন, তিনি এ দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে আন্তরিকভাবে কাজ করতে চান।
বৈঠকে রাষ্ট্রপতিকে অবগতির জন্য জানানো হয় যে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন ছাড়াও ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আয়োজনে কমিশন এখন পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এই দুটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে খুব শিগগিরই দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবে ইসি। এছাড়া নির্বাচন পরিচালনার সুবিধার্থে আনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার কাজও সম্পন্ন করেছে নির্বাচন কমিশন। উল্লেখ্য, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে প্রবাসী ও নির্দিষ্ট ভোটারদের জন্য পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমেও ভোট প্রদানের সুব্যবস্থা থাকবে।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তফসিল প্রকাশের তারিখ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে সিইসি আবারও বলেন, কমিশনের প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রস্তুতি পুরোপুরি শেষ হলেও বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষা, জাতীয় উৎসব এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। সব পক্ষের সঙ্গে সঠিক সমন্বয় করেই খুব শিগগিরই নির্বাচনের সঠিক ও চূড়ান্ত তারিখ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্ধারণ করা হবে।