ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬,  ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিন মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা কালভার্ট: দুর্ভোগে পথচারীরা নেপালে নিহত বেড়ে ৩৫৯, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার নেপালে তৈরি হয়েছে আরেক মৃত্যুফাঁদ, সতর্ক করল চীন ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকো ম্লাদিচের মৃত্যু জুলাই সনদ নিয়ে আপত্তি, সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি পৌঁছে দিলেন হুমায়ুন কবির প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

মক্কা চুক্তি নিয়ে ভারতের উদ্বেগ ও ভূরাজনৈতিক জটিলতা


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ৬:৪২ পিএম

সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের সমন্বয়ে গঠিত নয়া 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি'-তে যোগদানের জন্য আমন্ত্রণ পেয়েছে বাংলাদেশ। রিয়াদের পক্ষ থেকে ঢাকাকে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ৭ আগস্ট তিন দেশের মধ্যে চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকেই এতে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি নিয়ে নানা গুঞ্জন চলছিল। এর মধ্যে গত সোমবার পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির প্রথমবারের মতো স্পষ্ট করেন যে, মক্কা চুক্তিতে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণকে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখছে বাংলাদেশ। তিনি উল্লেখ করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মুসলিম দেশগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে উঠলে সেখানে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। তবে এ বিষয়ে অন্তর্বর্তীকালীন বাংলাদেশ সরকার এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি এবং কোন শর্তাবলির ভিত্তিতে সংযোজন ঘটতে পারে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বিদ্যমান।

দীর্ঘদিন ধরে কোনো সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে পরাশক্তিগুলোর সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনৈতিক নীতি বজায় রেখে চলেছে বাংলাদেশ। এমন প্রেক্ষাপটে এই চুক্তির ভালো ও মন্দ উভয় দিক নিয়ে আলোচনা চলছে। এ জোটে যোগ দিলে বাংলাদেশ মূলত তুরস্কের উন্নত প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, পাকিস্তানের পেশাদার সেনাপ্রশিক্ষণ এবং সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তার সুফল পেতে পারে। এর পাশাপাশি মুসলিম বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ় হবে এবং বিপুল সংখ্যক প্রবাসী অবস্থানরত উপসাগরীয় দেশগুলোর সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার হতে পারে।

তবে কৌশলগত বেশ কিছু ঝুঁকিও এখানে রয়ে গেছে। এই চুক্তির ফলে বাংলাদেশ সরাসরি নিজস্ব ভূমিতে হুমকি না থাকা সত্ত্বেও আঞ্চলিক সংঘাত বা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এছাড়া ইরান, ইসরায়েল, উপসাগরীয় শক্তি এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বহুমাত্রিক দ্বন্দ্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে কোনো এক পক্ষে অবস্থান নিতে হতে পারে, যা বাংলাদেশের ঐতিহ্যগত স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতির পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন কবির জানান, বাংলাদেশকে প্রস্তাবটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে হবে। কারণ সামরিক জোটে না যাওয়ার পুরোনো নীতি ভঙ্গ হওয়া, ভৌগোলিক দূরত্ব এবং বর্তমান মিত্রদের প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

উল্লেখ্য, মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তিটি বর্তমানে একটি কৌশলগত প্রতিশ্রুতি এবং এটি ন্যাটোর মতো কোনো সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থা নয়। এতে কোনো স্থায়ী সদরদপ্তর বা যৌথ কমান্ডের সিদ্ধান্ত হয়নি। পাশাপাশি সদস্য দেশগুলো সশস্ত্র হামলার শিকার হলে প্রতিরক্ষা সহায়তার মাত্রা ঠিক কেমন হবে, তাও স্পষ্ট নয়।

এদিকে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে এই চুক্তি নিয়ে ভারত গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে। নয়াদিল্লি মনে করছে, বাংলাদেশের সংযুক্তি এই চুক্তির প্রভাব ভারতের পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত বিস্তৃত করবে। ভারতের ওপি জিন্দাল গ্লোবাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্তের মতে, বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যুক্ত হলে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কে জটিলতা তৈরি হবে। ভারত এটিকে ভারতের নিরাপত্তাগত সংবেদনশীলতার প্রতি উদাসীনতা হিসেবে গণ্য করতে পারে এবং নিশ্চিতভাবেই নয়াদিল্লি এই পদক্ষেপকে ভালো চোখে দেখবে না।


এ সম্পর্কিত আরো খবর