বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
রাজনীতির প্রচলিত গণ্ডি পেরিয়ে একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে সাধারণ মানুষের দোড়গোড়ায় পৌঁছানোর এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ বজায় রেখেছেন বাউফলের সংসদ সদস্য, উন্নয়ন ফোরামের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
কেবল প্রাতিষ্ঠানিক সভা-সমাবেশ কিংবা রাজনৈতিক ময়দানেই নয়, ছুটির দিনেও গ্রামের বাড়িতে বসে অকাতরে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক সুখ-দুঃখের কথা শুনছেন তিনি।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) সকাল থেকেই পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে বিভিন্ন পেশা ও বয়সের শতাধিক মানুষ তাঁর গ্রামের বাড়িতে ভিড় জমান। সূর্য ওঠার আগে ফজর নামাজের পর থেকেই শুরু হয় এই ব্যতিক্রমী গণসাক্ষাৎ পর্ব।
ঘটনাস্থলে সরেজমিনে দেখা যায়, আগতদের মধ্যে কেউ এসেছেন পরিবারের দীর্ঘদিনের জমিজমা সংক্রান্ত পারিবারিক বিরোধ মেটানোর দিকনির্দেশনা নিতে, কেউ বা গুরুতর অসুস্থ স্বজনের চিকিৎসার খরচের যোগান খুঁজতে। আবার অনেকে এসেছেন দৈনন্দিন পারিবারিক সংকট ও সামাজিক সহায়তার আকুল প্রত্যাশায়। ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রত্যেককে অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাছে টেনে নেন, ধৈর্য সহকারে শোনেন তাঁদের নানা অভিজ্ঞতার গল্প ও ব্যক্তিগত কষ্টের কথা। দীর্ঘ এই গণসাক্ষাৎকালে তাৎক্ষণিকভাবে অনেককে আইনি ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি অসচ্ছল, অসহায় ও অসুস্থ বেশ কয়েকজন মানুষের হাতে নিজ উদ্যোগে তুলে দেন নগদ আর্থিক সাহায্য।
উপজেলার দূর-দূরান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ তাঁদের অনুভূতি ব্যক্ত করে জানান, রাজনীতিতে বড় নেতাদের কাছে গিয়ে মন খুলে মনের কথা বলা সচরাচর সহজ হয় না। কিন্তু এখানে এসে তাঁরা কোনো ধরনের প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক বাধা ছাড়াই নিজেদের সমস্যার কথা সরাসরি এমপি মাসুদকে বলতে পারছেন এবং সঙ্গে সঙ্গে বাস্তবসম্মত সহযোগিতার আশ্বাস পাচ্ছেন। এতে করে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মনে এক ধরণের গভীর স্বস্তি ও আস্থা কাজ করছে।
নিজের এই মানবিক উদ্যোগ প্রসঙ্গে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, "রাজনীতি মূলতঃ সাধারণ মানুষের সার্বিক কল্যাণের জন্যই। বাউফলের মাটি ও মানুষের সঙ্গে আমার সম্পর্ক আত্মার ও রক্তের। কোনো সাময়িক পদের মোহ না রেখেও সাধারণ মানুষের সুখে-দুঃখের সার্বক্ষণিক অংশীদার হওয়া যায়। সুদূর অঞ্চল থেকে যে মানুষটি বুকভরা আশা নিয়ে আমার কাছে আসেন, তাকে খালি হাতে বা নিরাশ করে ফেরাতে চাই না। বাউফলের প্রতিটি নাগরিক যেন তাঁদের ন্যায্য অধিকার ও আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচতে পারে—সেই লক্ষ্যেই আমার নিরবচ্ছিন্ন পথচলা।"
বাউফলের সুশীল ও সচেতন মহল মনে করছেন, রাজনীতি ও ক্ষমতার দূরত্ব মুছে ফেলে সাধারণ মানুষের এত কাছাকাছি এসে তাঁদের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার এই সংস্কৃতি কেবল পটুয়াখালীতে ইতিবাচক সামাজিক পরিবেশই তৈরি করছে না, বরং একটি দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক সমাজ গঠনেও তা দৃষ্টান্তমূলক ভূমিকা রাখছে।