আমতলী (বরগুনা) প্রতিনিধি:
সরকারি ফ্যামিলি কার্ড ও বিভিন্ন ভাতা দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে ৬০ বছরের এক বৃদ্ধাকে ধর্ষণের তীব্র অভিযোগ উঠেছে বশির মিয়া (৩৮) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত বশিরকে ধাওয়া করে ধরে সুপারিকাঠের গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে পুলিশে সোপর্দ করেছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট ২০২৬) দুপুরে বরগুনার তালতলী উপজেলার নলবুনিয়া কিল্লা এলাকায় এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। আটক বশির মিয়া তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী এবং মরা নিদ্রা গ্রামের নয়া মিয়ার ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বশির বাঁশ কেনার অজুহাতে শনিবার দুপুরে নলবুনিয়া কিল্লা এলাকার একটি বাড়িতে যান। সেখানে বৃদ্ধা নারী ও তাঁর নাতনিকে দেখতে পেয়ে বশির দা চাওয়ার ভান করেন। ঘরে দা না থাকায় নাতনিকে পাশের বাড়িতে পাঠাতে বাধ্য করেন তিনি। একা পেয়ে ফ্যামিলি কার্ড ও নানা সরকারি সুবিধার প্রলোভন দেখিয়ে অনৈতিক প্রস্তাব দেন। বৃদ্ধা রাজি না হলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয় বলে ভুক্তভোগীর অভিযোগ।
বৃদ্ধার ডাকচিকিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এলে বশির পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান। পরে ক্ষুব্ধ জনতা ধাওয়া দিয়ে তাঁকে ধরে বাড়ির উঠানের একটি সুপারি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। খবর পেয়ে তালতলী থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বশিরকে নিজেদের জিম্মায় নিয়ে গ্রেপ্তার করে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নির্যাতিতা নারী বলেন, "মোর মান-ইজ্জতের কিছুই রইলো না। ফ্যামিলি কার্ড আর সরকারি ভাতার কথা কইয়্যা মোর সর্বনাশ হরছে। মুই এই অন্যায়ের উপযুক্ত বিচার চাই।"
তবে অভিযুক্ত বশির নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "ফ্যামিলি কার্ডের কথা বললেও তাঁর সঙ্গে কোনো অনৈতিক কাজ করিনি; উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।"
এ বিষয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম জানান, বৃদ্ধা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে বশির নামের একজনকে গ্রেপ্তার করে থানায় আনা হয়েছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগীর পক্ষ থেকে থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।