ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাইকোর্ট পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন মোদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্জিত মুনাফা ছাড়া এককালীন তুলে নেওয়া যাবে জমা টাকা বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারী দল: রুহুল কবির রিজভী গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান স্বর্ণের বাজারে বড় পতন: ২২ ক্যারেটের ভরিতে দাম কমল ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নেপালে বন্যার তাণ্ডব: এক বাড়ি থেকেই উদ্ধার ২৪ মরদেহ প্রধানমন্ত্রীর ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ পরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের নির্দেশ স্থানীয় সরকার মন্ত্রীর নরওয়ের রাজার মৃত্যুতে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করলেন ড. আবদুল মঈন খান

গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:৪১ এএম

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) সকল রাজনৈতিক ক্ষমতার মূল উৎস দেশের অগণিত গণতন্ত্রকামী সাধারণ জনগণ—এমন দৃঢ় মন্তব্য ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, বিএনপির মূল ও প্রধান রাজনৈতিক লক্ষ্য হচ্ছে একটি আধুনিক, জনকল্যাণমূলক, পূর্ণাঙ্গ গণতান্ত্রিক এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলা।

 

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিএনপির ৪৮তম শুভ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে দেশের সর্বস্তরের জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া এক বিশেষ ও গুরুত্বপূর্ণ বাণীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাণীতে তিনি দলটির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, লাখ লাখ সমর্থক, শুভানুধ্যায়ী এবং সমগ্র দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সাথে তিনি অত্যন্ত গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, স্বনামধন্য রাষ্ট্রনায়ক শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক সফল প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে।

 

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিএনপির ঐতিহাসিক রাজনৈতিক যাত্রার ওপর আলোকপাত করে বলেন, অগাধ সাহস, নিরবচ্ছিন্ন সংগ্রাম, চরম ত্যাগ এবং অর্জিত সাফল্যের মধ্য দিয়ে দলটি তার গৌরবান্বিত ৪৮ বছরে পদার্পণ করল। এই বিশেষ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রতিটি ক্ষণ দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রপ্রিয় সর্বস্তরের মানুষের কাছে এক অপরিসীম আনন্দ, উদ্দীপনা এবং নতুন আশার প্রেরণা জোগায়।

 

বিএনপির রাজনৈতিক জন্ম ও ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করে তিনি বাণীতে তুলে ধরেন যে, ১৯৭৮ সালের এই ঐতিহাসিক ১ সেপ্টেম্বর তারিখে রাজধানীর রমনা বটমূলের উন্মুক্ত চত্বরে (তৎকালীন রমনা রেস্তোরাঁ প্রাঙ্গণে) বাংলাদেশের স্বাধীনতার মহান ঘোষক ও সাবেক সফল রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেছিলেন। তাঁর দৃষ্টিতে, তৎকালীন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রুদ্ধ হয়ে যাওয়া গণতন্ত্রকে পুনরায় প্রতিষ্ঠিত করার ইতিহাসে এটি একটি যুগান্তকারী ও স্মরণীয় মাইলফলক অধ্যায় ছিল।

 

তারেক রহমান বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, এ দেশের সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক বাক্‌স্বাধীনতা, চিন্তার ব্যক্তিস্বাধীনতা ও বহুদলীয় বিচারিক গণতন্ত্রের পথ সম্পূর্ণ রুদ্ধ করে দিয়ে ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী একদলীয় ‘বাকশাল’ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেশের রাষ্ট্র পরিচালনার পবিত্র দায়িত্ব হাতে নিয়ে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অবরুদ্ধ গণতন্ত্রকে পুনরায় উদ্ধার করেন এবং সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ ঘোষিত সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক কার্যক্রম ও রাজনীতি করার মৌলিক অধিকার ফিরিয়ে দেন। সেই ঐতিহাসিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপের ধারাবাহিকতায় এবং জাতীয় রাজনৈতিক চাহিদার প্রয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠা ঘটেছিল, যার মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে পুনরায় বহুমাত্রিক শাসনব্যবস্থা ও গণতন্ত্রের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।

 

বাণীতে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই বিশেষ দিনে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে ‘স্বাধীনতার মহান ঘোষক, সফল দূরদর্শী রাষ্ট্রনায়ক ও আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার’ হিসেবে পরম শ্রদ্ধায় অভিহিত করেন তারেক রহমান। তাছাড়াও তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক ভূমিকার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেন, তাঁর ‘সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব, অদম্য সাহস ও সর্বজনগ্রাহ্য নেতৃত্বের’ সুবাদেই বিএনপি কোনো একক গোষ্ঠীর দল না হয়ে বাংলাদেশের প্রতিটি সাধারণ পরিবারের অন্তরে সুদৃঢ় স্থান করে নিতে পেরেছিল।

 

তারেক রহমান তাঁর বাণীতে আরো জোর দিয়ে দাবি করেন যে, বিএনপি কেবল দেশে গণতন্ত্র ও সুশাসন পুনর্গঠনের জন্য সংগ্রাম করেনি, বরং জাতীয় স্বাধীনতা ও ভূখণ্ডগত সার্বভৌমত্ব রক্ষায় প্রতিমুহূর্তে দেশের কোটি মানুষকে সাথে নিয়ে আপসহীন ভূমিকা পালন করে এসেছে। স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং গণতান্ত্রিক শাসনকাঠামো যখনই কোনো প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির দ্বারা হুমকির মুখে পড়েছে, তখনই বিএনপির সর্বস্তরের নেতা-কর্মী, অনুসারী ও সমর্থকরা এ দেশের স্বাধীনতাকামী জনগণের পাশে থেকে অকাতরে আত্মত্যাগ স্বীকার করেছেন। রাজপথে সুশাসন ও মানবাধিকার পুনর্প্রতিষ্ঠার দীর্ঘ সংগ্রামে দলটির যেসব নেতাকর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন কিংবা গুরুতর আহত ও পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, বাণীতে তাঁদের অবদানের কথা অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী।

 

জাতীয় বিভিন্ন মেয়াদে বিএনপি সরকার পরিচালনার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, এ দেশের নাগরিকরা যখনই নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগের জন্য একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের সুযোগ পেয়েছে, তখনই তারা নির্দ্বিধায় বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে বসিয়েছে। অতীতে বিভিন্ন মেয়াদে দলীয় সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনর্নবীকরণ, নারীশিক্ষার অভূতপূর্ব বিপ্লব সাধন, অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা আনয়ন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে যুগান্তকারী উদ্যোগ ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়েছে।

 

প্রধানমন্ত্রী বাণীতে উল্লেখ করেন, দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় জুড়ে চলা ফ্যাসিবাদী শাসন ও নিষ্পেষণের অবসান ঘটিয়ে দেশের মানুষ সম্প্রতি এক অবাধ, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে পুনরায় তাদের প্রিয় দল বিএনপিকে দেশ পরিচালনার গুরুদায়িত্ব অর্পণ করেছে। গণমানুষের কাছে সম্পূর্ণ দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক একটি আধুনিক রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা উপহার দিয়ে বিএনপি তাদের এই অকৃত্রিম ট্রাস্ট ও আস্থার যথাযোগ্য প্রতিদান দিতে বদ্ধপরিকর।

 

পরিশেষে বাংলাদেশকে একটি প্রকৃত বৈষম্যহীন জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে পৃথিবীর বুকে প্রতিষ্ঠিত করতে বর্তমান সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন তারেক রহমান। তিনি দৃঢ় আশা প্রকাশ করেন, জনগণের সেই ঐতিহাসিক আস্থা ও বিশ্বাসকে লালন করে বিএনপির প্রতিটি নেতা-কর্মী ও সমর্থক নিজেদের দেশসেবা ও সমাজ গঠনের কাজে সর্বতোভাবে নিয়োজিত রাখবেন। দেশের সকল গণতন্ত্রকামী ও স্বাধীনতাপ্রিয় জনগণকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই ঐতিহাসিক লগ্নে আবারও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানিয়ে বাণীর সমাপ্তি টানেন প্রধানমন্ত্রী।


এ সম্পর্কিত আরো খবর