ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
‘ভূত’ হয়েও মিছিলে যোগ দিলেন দুই আ.লীগ নেতা, যশোরে পুলিশের আজব মামলা! নেপাল ও তিব্বতে ভয়াবহ বন্যায় মৃতের সংখ্যা ১ হাজার পার আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানালেন মেসি, হৃদয় স্পর্শ করল মরিনিওর চট্টগ্রাম বন্দরে পুরোনো পার্টসের নামে এলো ১২ কোটি টাকার বিলাসবহুল গাড়ি শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাইকোর্ট পুতিনকে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেন মোদি বাংলাদেশ ব্যাংকের নতুন সিদ্ধান্ত: অর্জিত মুনাফা ছাড়া এককালীন তুলে নেওয়া যাবে জমা টাকা বিএনপি জনগণের কাছে অঙ্গীকার রক্ষাকারী দল: রুহুল কবির রিজভী গণতন্ত্রকামী জনগণই বিএনপির রাজনৈতিক ক্ষমতার উৎস: তারেক রহমান স্বর্ণের বাজারে বড় পতন: ২২ ক্যারেটের ভরিতে দাম কমল ৪ হাজার ৪৭৪ টাকা

শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া শিক্ষক বরখাস্ত বেআইনি: হাইকোর্ট


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১১:৪৮ এএম

বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসারণের মতো কঠোর ও গুরুতর শাস্তি প্রদান করতে হলে তা অবশ্যই সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ডের ‘আপিল ও সালিশ কমিটি’ কর্তৃক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হবে। বোর্ডের আনুষ্ঠানিক অনুমোদনের আগে প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডি কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত কিংবা চাকরি থেকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিজ থেকে কার্যকর করতে পারে না বলে ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

 

অসদাচরণের অভিযোগ এনে এক কলেজ শিক্ষককে বরখাস্তের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে শিক্ষা বোর্ডের অনাপত্তি না পাওয়ার বিষয়টি চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের ওপর জারিকৃত রুল খারিজ করে এই রায় প্রদান করেন উচ্চ আদালত। রায়ে বিচারকগণ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন, বেসরকারি কলেজের কোনো শিক্ষককে বরখাস্ত বা অপসারণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রবিধানমালা ও আত্মপক্ষ সমর্থনের মৌলিক নীতি যথাযথভাবে অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। কোনো শিক্ষককে কারণ দর্শানোর যথোপযুক্ত সুযোগ না দিয়ে বা কেবল নির্দেশকের মৌখিক কিংবা মোবাইল ফোনের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠন করে তড়িঘড়ি বরখাস্তের পদক্ষেপ নেওয়া সম্পূর্ণ আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ও সম্পূর্ণ বেআইনি।

 

‘মোহা. আখতারুজ্জামান বনাম রাষ্ট্র এবং অন্যান্য’ সংক্রান্ত মামলায় এমন গুরুত্বপূর্ণ ও দিকনির্দেশনামূলক পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন হাইকোর্ট। গত ৭ জুলাই বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দী এবং বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবিরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন, যার পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশিত হয়েছে। এ মামলার মূল রায়টি রচনা করেছেন বিচারপতি দিহিদার মাসুম কবির। মামলায় রিট আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মো. কামরুজ্জামান, সংক্ষুব্ধ কলেজ শিক্ষকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন আইনজীবী মো. জহিরুল ইসলাম এবং রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আনিসুর রহমান খান ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বান্না।

 

হাইকোর্ট এই রায়ের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত না-মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তাকে বরখাস্তকালীন সময় থেকে অবসর গ্রহণ পর্যন্ত সমুদয় বকেয়া বেতন-ভাতা ও অবসরোত্তর সুবিধা প্রদানসংক্রান্ত মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকার ‘আপিল ও সালিশ কমিটি’র পূর্ববর্তী সিদ্ধান্তটি পূর্ণাঙ্গ বহাল রেখেছেন।

 

মামলার বিবরণ ও প্রেক্ষিত থেকে জানা যায়, ২০১৪ সালের ৯ নভেম্বর কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার গচিহাটা পল্লী একাডেমির প্রধান শিক্ষিকা জাকিয়া বেগম গচিহাটা কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আবুল মনসুরের বিরুদ্ধে অনৈতিক বা অসদাচরণের একটি অভিযোগ আনেন। ওই অভিযোগে বলা হয়, শিক্ষক আবুল মনসুর প্রথমে জাকিয়া বেগমের মেয়েকে একটি বই ফেরত দেওয়ার অযুহাতে তাদের বাড়িতে যান এবং পরবর্তীতে ছোট মেয়ের পাশে বসে অনৈতিক আচরণ করার চেষ্টা করেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষাপটে কলেজের অধ্যক্ষ ২০১৪ সালের ১৭ নভেম্বর শিক্ষক আবুল মনসুরকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেন। শিক্ষক নোটিশের জবাবে বাড়িতে যাওয়ার কথা স্বীকার করলেও অসৎ উদ্দেশ্য বা অনৈতিক আচরণের বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে প্রত্যাখান করেন। কিন্তু শিক্ষকের এই জবাব গভর্নিং বডির কাছে সন্তোষজনক না মনে হওয়ায় ২৯ নভেম্বর তাকে দ্বিতীয় শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়। ৬ ডিসেম্বর দ্বিতীয় জবাব পাঠালেও গভর্নিং বডির সভাপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মোহা. আখতারুজ্জামানের মৌখিক ও মোবাইল ফোনের নির্দেশে মাত্র তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়, যা মাত্র ছয় দিনের মাথায় দ্রুত রিপোর্ট দাখিল করে।

উক্ত তদন্ত প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে ২০১৫ সালের ৩১ জানুয়ারি গভর্নিং বডির সভায় শিক্ষক আবুল মনসুরকে বরখাস্তের মূল সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু পরবর্তীতে অনুমোদনের জন্য তা ২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের আপিল ও সালিশ কমিটিতে পাঠানো হলে ২০১৫ সালের ২০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত বোর্ড সভায় গভর্নিং বডির এই বরখাস্তের প্রস্তাবটি সরাসরি নামঞ্জুর করা হয়। একই সঙ্গে শিক্ষককে পূর্ণ বকেয়া বেতনসহ চাকরিতে বহালের আদেশ দেয় বোর্ড। বোর্ডের এই সিদ্ধান্তকে অমান্য করে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন প্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা মোহা. আখতারুজ্জামান।

হাইকোর্ট মামলার চূড়ান্ত শুনানিতে পুনর্ব্যক্ত করেন যে, বোর্ড সালিশ কমিটির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ব্যতীত সরাসরি বরখাস্ত কার্যকর করা এখতিয়ার বহির্ভূত। তবে রিট মামলা বিচারাধীন থাকা অবস্থায় শিক্ষক আবুল মনসুর অবসরগ্রহণের নির্ধারিত বয়সে পৌঁছে যাওয়ায় তাকে পদে সরাসরি যোগদানের সুযোগ না থাকলেও বরখাস্তের তারিখ থেকে অবসরে যাওয়ার দিন পর্যন্ত যাবতীয় বেতন, ভাতা, চাকরিজনিত সুবিধা এবং পেনশন প্রদান করতে অবিলম্বে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর