ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬,  ১৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তিন মাসেও সংস্কার হয়নি ভাঙা কালভার্ট: দুর্ভোগে পথচারীরা নেপালে নিহত বেড়ে ৩৫৯, নিখোঁজ প্রায় এক হাজার নেপালে তৈরি হয়েছে আরেক মৃত্যুফাঁদ, সতর্ক করল চীন ৮ হাজার মুসলমান হত্যার নেতৃত্ব দেওয়া ‘বসনিয়ার কসাই’ রাটকো ম্লাদিচের মৃত্যু জুলাই সনদ নিয়ে আপত্তি, সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউট গত বছরের তুলনায় কমেছে খুন, ধর্ষণ ও মব সহিংসতা : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কবর রচনা করা হয়েছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী আইন-শৃঙ্খলা ও মাদক নিয়ন্ত্রণে ৬৪ জেলার দায়িত্ব পেলেন ৩০ মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চিঠি পৌঁছে দিলেন হুমায়ুন কবির প্রযুক্তির ছোঁয়ায় বিলুপ্তির পথে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঢেঁকি

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে আসিফের বক্তব্য ঘিরে তোলপাড়, কড়া জবাব রাশেদ খাঁনের


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৭ আগস্ট, ২০২৬ সময় : ১০:৪৪ এএম

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদকে নিয়ে জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবরের দেওয়া বিতর্কিত ও স্পর্শকাতর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা ও কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। তিনি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ ও বিষদ পোস্টের মাধ্যমে আসিফ আকবরের সাম্প্রতিক বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের বিরুদ্ধে এই কঠোর বার্তা ও অবস্থান তুলে ধরেন।

 

বুধবার (২৬ আগস্ট) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে রাশেদ খাঁনের দেওয়া বিশেষ স্ট্যাটাসটিতে আসিফ আকবরের সাম্প্রতিক অবস্থানের কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হয়। সেখানে তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, গায়ক আসিফ আকবর নিজেই একসময় আদালতকে জানিয়েছিলেন যে মাথার শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণেই নাকি তাঁকে অ্যালকোহল বা মদ পান করতে হয়! রাশেদ খাঁন ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, তিনি সত্যি জানেন না গায়ক আসিফ আকবরের কখন মাথার সমস্যা থাকে আর কখন থাকে না।

 

এই প্রসঙ্গ টেনে রাশেদ খাঁন বলেন, ২০২৬ সালের ২৪ মার্চ বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসানের জন্মদিনের কেক কাটার উদ্দেশ্যে আসিফ আকবর স্বশরীরে লন্ডনে উপস্থিত হয়েছিলেন। ওই সময় তিনি ব্যাপক সমালোচনার মুখোমুখি হলে রাশেদ খাঁন মনে করেন, আসিফ আকবরের সেই সময় মাথার সমস্যা থাকার কারণেই হয়তো তিনি এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন ভুলটি করে বসেছিলেন। পরবর্তীতে মাথার অবস্থা স্বাভাবিক ও ঠিক হলে তিনি নিজের সংঘটিত ভুলটি অনুধাবন করতে পেরেছেন বলে ধারণা করা হয়।

 

বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও ক্রিকেট প্রশাসনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি আরও লেখেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শাসননামায় আসিফ আকবর বিসিবির (বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড) পরিচালকের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পেয়েছিলেন। তবে পরবর্তীতে কোনো কারণে সেই পদে বহাল ও স্বপদে বহাল থাকতে না পারার কারণে তিনি বিসিবির প্রতি ও সার্বিক ব্যবস্থার ওপর বেশ ক্ষুব্ধ ও হতাশ হয়ে পড়েছেন বলে মনে হচ্ছে।

 

সম্প্রতি দেশের বর্তমান মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ সম্পর্কে গায়ক আসিফ আকবর অত্যন্ত অপমানজনক মন্তব্য করেন। আসিফ আকবর বলেছিলেন, "এই লোক গুম ছিল নাকি লুকিয়ে ছিল, আল্লাহ জানেন, স্যুট পরে এসে এখন সংবিধান শেখাচ্ছে!" আসিফের এমন মন্তব্যের সরাসরি কড়া উত্তর ও প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে রাশেদ খাঁন বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নিয়ে এমন বিরূপ, অপমানজনক ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের সময় আসিফ আকবরের মাথার মানসিক ভারসাম্য বা অবস্থা আদৌ ঠিক ছিল কি না, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগে। প্রয়োজনে প্রকাশ্যে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার আগে একটু মদ পান করে, মাথাটা পুরোপুরি ঠান্ডা ও ঠিক করে নিয়ে তারপরেই তাঁর জনসম্মুখে বক্তব্য দেওয়া উচিত ছিল। মাথার এমন স্পষ্ট অসুস্থতা নিয়ে কীভাবে কোনো সচেতন নাগরিক এভাবে জনসম্মুখে এসে অনর্গল বক্তব্য দিতে পারে, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

 

আসিফ আকবরের এমন উক্তির সঙ্গে সাবেক সরকারের তুলনা করে রাশেদ খাঁন অত্যন্ত ক্ষোভের সঙ্গে তুলে ধরেন যে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর স্পর্শকাতর গুম হওয়ার ঘটনা নিয়ে আসিফ আকবর বর্তমানে ঠিক যে ভাষায় কথা বলছেন, ঠিক একইভাবে শেখ হাসিনাও অতীতে বিভিন্ন গুমের ঘটনা নিয়ে চরম হাসিঠাট্টা ও উপহাস করত। শেখ হাসিনা বলতেন গুম হওয়া মানুষ বিদেশে পালিয়ে যেতে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে ডুবে মারা গেছে এবং এভাবে গুমের ভয়াবহতাকে বৈধতা দেওয়ার অপচেষ্টা করত। রাশেদ খাঁনের মতে, লন্ডনে বিতর্কিত সাকিব আল হাসানের সাথে সাক্ষাৎ ও সময় কাটিয়ে আসার পর থেকেই গায়ক আসিফ আকবরের সুর ও কথার ধরন অদ্ভুতভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে বলে গভীরভাবে প্রতীয়মান হচ্ছে।

 

তিনি বলেন, আসিফ আকবরও এখন শেখ হাসিনার পুরোনো কায়দায় ও ভাষায় দেশের ভয়াবহ গুমের সংস্কৃতি নিয়ে প্রকাশ্যে কটাক্ষ ও প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন। আসিফ আকবর যদি কেবল সাধারণ কোনো রাজনৈতিক মতাদর্শের সমালোচনা করতেন, তবে তা নিয়ে প্রতিক্রিয়া বা প্রতিবাদ জানানোর বিন্দুমাত্র প্রয়োজন ছিল না। কিন্তু তিনি সরাসরি গুমের মতো একটি গুরুতর মানবিক ও রাজনৈতিক অপরাধ নিয়ে খোলাখুলি কটাক্ষ করেছেন এবং প্রশ্ন তুলেছেন, যার কারণেই জনপ্রিয় এই শিল্পীর দায়িত্বহীন বক্তব্যের কড়া জবাব দিতে তিনি বাধ্য হলেন।

 

রাশেদ খাঁন অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে শেষে উল্লেখ করেন, ছোটবেলা থেকে আসিফ আকবরের অসংখ্য জনপ্রিয় গান তিনি শুনেছেন এবং তাঁকে ভীষণ পছন্দ করতেন। বাংলাদেশের বিরোধী দলীয় লাখ লাখ নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ তাঁকে একজন দারুণ প্রিয় গায়ক হিসেবে অন্তরে জায়গা দিয়ে ভালোবাসতেন। তবে কোনো প্রকৃত শিল্পী বা জাতীয় তারকার কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলে ভিড়ে যাওয়া বা পক্ষপাতিত্ব করা মোটেও শ্রেয় নয়। আর যদি তিনি তা করেন, তবে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে সাকিবের মতোই ঘৃণিত ও প্রত্যাখ্যাত ব্যক্তিতে পরিণত হবেন। রাশেদ খাঁন আক্ষেপ করে প্রশ্ন তোলেন, কেন হঠাৎ করে জনপ্রিয় গায়ক আসিফ আকবর বিতর্কের মুখে থাকা ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানের রূপ ধারণ করতে চাইছেন? কোটি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মানের প্রতিদান এভাবে অনাকাঙ্ক্ষিত ও কুরুচিপূর্ণ আচরণের মাধ্যমে ফিরিয়ে দেওয়া মোটেই উচিত হয়নি বলে সতর্ক করেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর