অনলাইন রিপোর্টার
ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদের জামিন আবেদনের শুনানি আজ বুধবার (দুই সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবিরের আদালতে বেলা ১১টার দিকে এই জামিন শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন বিদিশা এরশাদের আইনজীবী মনিরুজ্জামান সবুজ।
আইনজীবী জানান, তারা আদালতে আপিলের শর্তে জামিন আবেদন পেশ করবেন এবং আশা করছেন আদালত সমস্ত নথি বিবেচনা করে বিদিশা এরশাদকে জামিন দেবেন।
এর আগে গত ২০ মে প্রতারণার এই মামলায় বিদিশা এরশাদকে দুই বছরের সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম। তবে রায় ঘোষণার সময় বিদিশা এরশাদ আদালতে অনুপস্থিত ও পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল।
পরবর্তীকালে সেই পরোয়ানাবলে গত ২৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হলে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে তার আইনজীবী আপিলের শর্তে জামিন আবেদন করেন। কিন্তু আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে মারাত্মক প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামের এক ব্যবসায়ী।
মামলার এজাহার সূত্রের অভিযোগে বলা হয়, ব্যবসায়ী মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন হলে লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই তাকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরবর্তীকালে চুক্তি অনুযায়ী ফ্ল্যাটটি বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকা দাম’ ধার্য করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে টাকা পরিশোধের পর বায়নানামা সম্পাদিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। পরবর্তীকালে টাকা ফেরত হিসেবে দেওয়া ৭২ লাখ টাকার চেকও পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় প্রত্যাখ্যাত হয়।