ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬,  ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাসই গড়বে সুস্থ প্রজন্ম: মীর শাহে আলম নাটোরে প্রবাসীর শপিং মলে হামলা ও লুটপাট, ৫ কোটি টাকার ক্ষতি জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নিতে চায় না বিএনপি সরকার: প্রতিমন্ত্রী তিন নিরাপত্তারক্ষীসহ অপহৃত কালাতের রাজপুত্র শাহজাদা আহমেদজাই 'আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স' শব্দ নিষিদ্ধের ঘোষণা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নারী পরীক্ষকের সামনে পুরুষরা কম ব্যথা অনুভব করেন: নতুন গবেষণা উইন্ডিজের বিপক্ষে টস জিতে ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ, একাদশে নেই মুশফিক! কাঁদুনে গ্যাসে ফরাসি বিক্ষোভকারীর মৃত্যু, পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অধ্যায় শেষ, দাবি বিরোধী নেতা আইজেনকোটের ফেনারবাখচেকে হারিয়ে ইউরোলিগে ভ্যালেন্সিয়ার দুর্দান্ত জয়

চীফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

সাতছড়িতে বন্যপ্রাণীদের পানি সংকট নিরসনে জলাধার খননের তাগিদ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৩:৫৬ পিএম

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় অবস্থিত সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের বন্যপ্রাণীদের তীব্র পানির সংকট দূর করতে জরুরি ভিত্তিতে জলাধার বা পুকুর পুনঃখননের তাগিদ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর (অ্যাটর্নি জেনারেল সমমর্যাদা) অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম। বন বিভাগ চাইলে তিনি নিজস্ব অর্থায়নে বন্যপ্রাণীদের জন্য পুকুর খনন ও পানির সুব্যবস্থা করে দেওয়ার আশ্বাস প্রদান করেন।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন টিমকে সাথে নিয়ে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে তাঁর সাথে ছিলেন সাতছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা মোবারক হোসেনসহ বন বিভাগের কর্মকর্তারা।


পরিদর্শন শেষে জানা যায়, অতি সাম্প্রতিক সময়ের ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের কারণে উদ্যানের ভেতরের প্রধান জলাধারগুলো (বিশেষ করে ‘বড় পুকুর’) পলিমাটি ও বালু জমে ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে আসন্ন শুষ্ক মৌসুমে বনের পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ার পাশাপাশি বন্যপ্রাণীদের সুপেয় পানির তীব্র সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।


বন বিভাগ ও স্থানীয় পরিবেশবাদীদের মতে, বর্তমানে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের ৩টি প্রধান জলাধারের মধ্যে ২টি পাহাড়ি বালুচাপা পড়ে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রায় পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে এবং অপরটি ভরাট হওয়ার পথে। বনের ভেতরে পানির উৎস বিনষ্ট হলে উল্লুক, চশমাধারী হনুমান, হরিণ ও মেছোবাঘের মতো বিরল প্রজাতির বন্যপ্রাণী পানির খোঁজে লোকালয়ে চলে আসতে পারে, যা প্রাণীদের জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলবে। এছাড়া বনের আর্দ্র জলবায়ু, ব্যাঙ ও বিভিন্ন কীটপতঙ্গের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতেও এই জলাধারগুলোর ভূমিকা অপরিসীম।


সংকট নিরসনে চীফ প্রসিকিউটর বেশ কিছু জরুরি পদক্ষেপের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত পুকুর দুটি অবিলম্বে পুনঃখনন করে গভীরতা বাড়ানো ও পাড় মজবুত করার তাগিদ দেন। এছাড়া শুষ্ক মৌসুমের কথা চিন্তা করে প্রয়োজনে গভীর নলকূপ স্থাপন বা কৃত্রিম টেকসই জলাধার তৈরি এবং ভবিষ্যতে ঢল ও বালুর স্রোত ঠেকাতে কারিগরি পরামর্শ অনুযায়ী গাইড ওয়াল পুনর্নির্মাণ, রাবার ড্যাম বা গাইড ব্লক স্থাপনের পরামর্শ দেন। আসন্ন শুষ্ক মৌসুম শুরু হওয়ার পূর্বেই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই খনন ও সংস্কার কাজ সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।



এ সম্পর্কিত আরো খবর