ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

চট্টগ্রামে নিজ ঘর থেকে হিজড়া নেত্রী ‘গুরুমা’ মৌসুমীর লাশ উদ্ধার, হত্যার সন্দেহ


  • আপলোড সময় : শনিবার ০৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৭:০৬ পিএম

চট্টগ্রাম নগরের একটি আবাসিক ঘর থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের এক নেত্রীর রহস্যজনক লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম মোহাম্মদ মহসীন ওরফে মৌসুমী হিজড়া (৫২)। তিনি চট্টগ্রামে হিজড়া সম্প্রদায়ের একটি অংশের কাছে ‘গুরুমা’ হিসেবে ব্যাপকভাবে পরিচিত ছিলেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় বিভিন্ন সূত্র। লাশের গলার জখম ও পারিপার্শ্বিক আলামত দেখে পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।


শনিবার সকালে নগরের খুলশী থানার আমবাগান রেলওয়ে কলোনিসংলগ্ন হিজড়া কলোনির নিজস্ব বাসা থেকে মৌসুমীর লাশটি উদ্ধার করা হয়। নিহতের গলায় স্পষ্ট জখমের চিহ্ন রয়েছে। এ ছাড়া বাসায় থাকা গচ্ছিত নগদ টাকা ও তাঁর ব্যবহৃত দুটো মুঠোফোন খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে নিশ্চিত করেছে আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনী।


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মৌসুমী ওই ঘরে একাই বসবাস করতেন। শুক্রবার দিবাগত রাত দুইটা পর্যন্ত তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে স্বাভাবিক গল্পগুজব করেন। এরপর তিনি নিজের শয়নকক্ষে ঘুমাতে যান। ভোররাতের দিকে পাশের ঘরের বাসিন্দারা তাঁর কক্ষ থেকে উচ্চশব্দে বাগ্‌বিতণ্ডার আওয়াজ শুনতে পেয়েছিলেন। তবে পরিচিত কারও সঙ্গে হয়তো কথা বলছেন ভেবে প্রতিবেশীরা তখন বিষয়টিতে তেমন গুরুত্ব দেননি।


বাসার ঠিক পেছনেই মৌসুমীর নিজের একটি গরুর খামার রয়েছে। সেখানে নিয়মিত গবাদিপশু লালন-পালন করা হতো। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার ওই খামারের একটি গরু বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেই গরু বিক্রির নগদ টাকা মৌসুমীর কাছেই রক্ষিত ছিল। শনিবার সকালেও মৌসুমীর নতুন আরেকটি গরু কিনতে যাওয়ার পরিকল্পনা ছিল। তবে মর্মান্তিক এই ঘটনার পর থেকে ঘরে রাখা সেই নগদ অর্থ এবং তাঁর ব্যবহৃত দুটি মুঠোফোনের কোনো হদিস মিলছে না।


শনিবার সকাল ১০টা বেজে গেলেও মৌসুমী ঘুম থেকে না ওঠায় স্থানীয় প্রতিবেশীরা তাঁকে ডাকতে যান। এ সময় তাঁরা ঘরের প্রধান দরজাটি খোলা দেখতে পান। ঘরের ভেতরে গিয়ে বিছানার ওপর মৌসুমীকে অসাড় অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা, যাঁর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি খুলশী থানা পুলিশকে জানানো হয়।


ঘটনাটির বিষয়ে খুলশী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাম মোহাম্মদ নাসিম জানান, নিহত মৌসুমীর গলায় গভীর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিক আলামতে এটি স্পষ্টতই একটি হত্যাকাণ্ড বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। তবে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এদিকে মৌসুমী হিজড়ার করুণ মৃত্যুর খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে হিজড়া সম্প্রদায়ের শত শত সদস্য ঘটনাস্থলে এসে ভিড় জমান। তাঁরা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত অপরাধীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে কঠোর শাস্তির আওতায় আনার দাবিতে ওই এলাকায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম জানান, নিহত মৌসুমী হিজড়া সম্প্রদায়ের একজন শীর্ষ স্থানীয় নেতা ছিলেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে তদন্ত পরিচালনা করা হচ্ছে এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার জন্য লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর