ক্রীড়া প্রতিবেদক
আবারও ব্যাটিং ব্যর্থতায় চরম বিপর্যয়ে পড়ল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১১৪ রানে থমকে যায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা। তবে এই সামান্য পুঁজিতেও বল হাতে শ্রীলঙ্কাকে শুরুতে বড় ধাক্কা দেন বাংলাদেশের বোলাররা, যা ম্যাচটিতে তীব্র রোমাঞ্চ ছড়ায়। শেষ পর্যন্ত হার্ষিথা সামারাবিক্রমার চমৎকার এক লড়াকু ইনিংসের কাছে হার মানতে হয় বাংলাদেশকে।
নারী এশিয়া কাপের গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে ৪ উইকেটে হেরে গেছে বাংলাদেশ। ৪ বল হাতে রেখে পাওয়া এই জয়ে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন শ্রীলঙ্কা। সেই সঙ্গে অলিখিতভাবে তারা গ্রুপ চ্যাম্পিয়নও হয়েছে। আগামী শুক্রবার টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে এ গ্রুপের রানার্সআপ দলের মুখোমুখি হবে লঙ্কানরা।
ম্যাচে ১৭ বছর বয়সী শ্রীলঙ্কান বাঁহাতি স্পিনার চামুদি প্রাবোদা তার ষষ্ঠ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলতে নেমে ক্যারিয়ারের উইকেট সংখ্যা দ্বিগুণ করেন। পঞ্চম ওভারে জুরাইরা ফেরদৌসের বিদায়ের পর বাংলাদেশ যখন ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছিল, তখন প্রাবোদা তার প্রথম ও ম্যাচের সপ্তম ওভারে বিপজ্জনক হয়ে ওঠা দিলারা আক্তারকে সাজঘরে ফেরান। মন্থর পিচে একটি চমৎকার বাউন্ডারি মারার মাত্র দুই বল পরেই মাঠ ছাড়তে হয় দিলারাকে। সাজঘরে ফেরার আগে ২৬ বলে ২৬ রান করেন তিনি।
প্রাবোদা এবং শ্রীলঙ্কার অন্য স্পিনাররা নিয়ন্ত্রিত ও শৃঙ্খলিত বোলিং করে বাংলাদেশের ব্যাটারদের চেপে রাখেন। এরপর সোবহানা মোস্তারি (৪১ বলে ৩৪) ও স্বর্ণা আক্তারের (১৪ বলে ৯) ৪১ রানের কার্যকরী জুটি ডেথ ওভার পর্যন্ত বাংলাদেশকে লড়াইয়ে টিকিয়ে রাখে। নব্বইয়ের ঘরে থেকে শেষদিকের ওভারগুলো খেলা শুরু করায় বড় সংগ্রহের আশাই করছিল দল।
তবে প্রাবোদা তার স্পেলের শেষ ওভারে তিন বলের ব্যবধানে দুই ব্যাটারকেই ফিরিয়ে বাংলাদেশের বড় সংগ্রহের স্বপ্ন ভেঙে দেন। এই লঙ্কান তরুণ স্পিনার ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় তুলে নেন ৩টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। পাশাপাশি সুগান্দিকা কুমারি পান ২ উইকেট।
জবাবে অল্প রান নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে হলে শুরুতেই উইকেট তুলে নেওয়ার বিকল্প ছিল না বাংলাদেশের। দলের প্রয়োজন অনুযায়ী পেসার মারুফা আক্তার ঠিক সেটাই করেন। নিজের প্রথম ওভারের শেষ বলে শ্রীলঙ্কান অধিনায়ক চামারি আতাপাত্তুকে এবং পরের ওভারে জাফ্ফাকে শিকার বানান তিনি। পাওয়ার প্লেতে নিজের ৩ ওভারে ১৭ রান দিয়ে ২ উইকেট তুলে নেন মারুফা।
তাতে বেশ চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কার মিডল অর্ডার। পাওয়ার প্লের শেষ বলে অফস্পিনার সুলতানা খাতুনের শিকার হন সাঞ্জানা কাভিন্দি। ফলে দশম ওভারে ৪৪ রান তুলতেই ৫টি মূল মূল্যবান উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়ে শ্রীলঙ্কা। কিন্তু ষষ্ঠ উইকেটে সামারাবিক্রমা ও নিলাকশিকা সিলভার ৩৮ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ম্যাচটি শ্রীলঙ্কার দিকে ঘুরিয়ে দেয়।
ম্যাচে ব্রেকথ্রুর জন্য মরিয়া ছিল বাংলাদেশ। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ১৭তম ওভারে তার ট্রাম্প কার্ড মারুফাকে আবার বোলিংয়ে আনেন। মারুফা ফিরতি ওভারে সিলভাকে আউট করেন এবং মাত্র চার রান দেন। নিজের ৪ ওভারের বোলিং কোটা শেষ করেন ২১ রানে ৩ উইকেট নিয়ে, যা তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের সেরা বোলিং। ৪৮ ম্যাচের আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এ নিয়ে চতুর্থবারের মতো তিন উইকেট পেলেন এই ডানহাতি পেসার।
এদিকে অলরাউন্ডার রিতু মনি তার প্রথম তিন ওভারে অত্যন্ত নিখুঁত ও কিপটে বোলিং করেছিলেন। কিন্তু হার্ষিথা সামারাবিক্রমা রিতুর শেষ ওভার থেকে একাই ১৬ রান তুলে নেন, যা পুরো ম্যাচের এক ওভারে সর্বোচ্চ সংগৃহীত রান। আর তাতেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি শ্রীলঙ্কার দিকে চলে যায়। সেই ওভারে একটি চার ও ওভারবাউন্ডারি মারার পর শেষদিকে নাহিদা আক্তারকেও বিশাল ছক্কা হাঁকান সামারাবিক্রমা। ফলে জয়ের জন্য শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন দাঁড়ায় মাত্র ২ রান। শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে সামারাবিক্রমার প্যাডে লেগে বল উইকেটকিপারের পাশ দিয়ে চলে গেলে লেগ বাই থেকে জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে লঙ্কানরা।