ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৪:৫৮ পিএম

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রদত্ত রায়ের বিরুদ্ধে আইনানুযায়ী নির্ধারিত ৩০ দিনের নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে আপিল দায়ের না করলে আর কোনো সুযোগ অবশিষ্ট থাকে না বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। তিনি উল্লেখ করেন, প্রচলিত আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য; পলাতক আসামী মাওলানা আবুল কালাম আজাদ কিংবা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা—নির্ধারিত সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলে আইনগতভাবে কারো জন্যই আর আপিলের সুযোগ থাকে না।


আজ সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নিজ কার্যালয়ের সংবাদ সম্মেলনকক্ষে ট্রাইব্যুনালে দণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আজাদের আপিল আবেদনের হালনাগাদ সংক্রান্ত বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চিফ প্রসিকিউটর এ কথা নিশ্চিত করেন।


মো. আমিনুল ইসলাম আইনগত ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, মাওলানা আবুল কালাম আজাদকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছিলেন। রায় ঘোষণার পর তিনি যেকোনো কারণেই হোক দীর্ঘদিন দেশের বাইরে অবস্থান করেছিলেন এবং যথাসময়ে আপিল দায়ের করেননি। ট্রাইব্যুনাল আইনের ২১-এর ৩ ধারা সুস্পষ্ট করে উল্লেখ করেছে যে, ট্রাইব্যুনালের যেকোনো রায় ঘোষণার পরবর্তী ৩০ দিনের মধ্যে সংক্ষুব্ধ পক্ষকে আপিল বিভাগে আপিল করতে হবে। উক্ত ৩০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলে তা আর আদালতে গ্রহণযোগ্য হবে না। এই বিধান পলাতক ব্যক্তি কিংবা কারাগারে অবস্থানরত অভিযুক্ত—সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। ফলে উক্ত আইনের আলোকেই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কিংবা আবুল কালাম আজাদের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ায় আপিলের দুয়ার বন্ধ হয়ে গেছে।


চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে মাওলানা আবুল কালাম আজাদের দণ্ড সংক্রান্ত আবেদনের ওপর শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে তিনি শুনানিতে বিদ্যমান আইনের বাধ্যবাধকতা ও ধারাগুলো উপস্থাপন করেন। তিনি জানান, আবুল কালাম আজাদের আবেদনটি আপিল বিভাগ আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণই করেননি; ফলে উচ্চ আদালতে এ বিষয়ে বর্তমানে কোনো পেন্ডিং প্রসিডিং বা ঝুলন্ত আইনি প্রক্রিয়া নেই। আসামিপক্ষের আইনজীবীরাও উক্ত আইনগত বাধ্যবাধকতা বুঝতে পেরে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ থেকে নিরস্ত হয়েছেন।


আইনি প্রতিকারের বিকল্প ক্ষেত্র প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর জানান, নির্ধারিত ৩০ দিন অতিক্রান্ত হয়ে গেলে অন্য কোনো সাধারণ বা বিশেষ আইনি ফোরামেও আর প্রতিকার চাওয়ার পথ খোলা থাকে না। ফলে ট্রাইব্যুনালের রায় কার্যকর করা ব্যতিরেকে আর কোনো বিকল্প পথ নেই। তবে সরকারের বিশেষ প্রশাসনিক ক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেকোনো দণ্ডাদেশ স্থগিত বা মওকুফ করার একটি সহজাত ও অন্তর্বর্তী ক্ষমতা সরকারের হাতে সংরক্ষিত থাকে। সরকার ইচ্ছা করলে যেকোনো আসামির ক্ষেত্রে এই সহজাত ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে, আবার নাও করতে পারে—এটি সম্পূর্ণরূপে সরকারের একতিয়ারভুক্ত বিষয়।


এ সম্পর্কিত আরো খবর