ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধ, চাচার লাঠির আঘাতে ভাতিজা নিহত


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১১ পিএম

 বিরোধের একপর্যায়ে তার মাথায় বাঁশের লাঠি দিয়ে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।


নিহত ফরিদুল ইসলাম দামুড়হুদা উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের পীরপুরকুল্লা গ্রামের মৃত আবু হোসেনের ছেলে। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। একই সঙ্গে স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।


পুলিশ ও নিহতের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পীরপুরকুল্লা গ্রামে ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে তার চাচা দুলালের কথা-কাটাকাটি হয়। বাড়ির পাশে ময়লা ফেলা নিয়ে প্রথমে তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডার সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উভয়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।


এ সময় দুলাল বাঁশের লাঠি দিয়ে ফরিদুল ইসলামের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করেন পরিবারের সদস্যরা। লাঠির আঘাতে তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে পড়ে যান। পরে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।


চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফরিদুল ইসলামের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর পরামর্শ দেন। পরে স্বজনরা তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়।


ফরিদুল ইসলামের মৃত্যুর খবর এলাকায় পৌঁছালে স্বজনদের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। প্রতিবেশী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। সামান্য বিষয়কে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে একজনের মৃত্যুতে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।


নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, বাড়ির পাশে ময়লা ফেলা নিয়ে শুরু হওয়া বিরোধ এতটা ভয়াবহ রূপ নেবে, তা তারা ভাবতে পারেননি। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লাঠির আঘাতে ফরিদুল গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, বাড়ির পাশে ময়লা ফেলা নিয়ে বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, সংঘর্ষের পরিস্থিতি এবং এতে কারা জড়িত ছিলেন—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্তে পাওয়া তথ্য ও সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এ ঘটনায় এলাকায় যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়েও পুলিশ নজর রাখছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


স্থানীয়দের ভাষ্য, পারিবারিক বা প্রতিবেশী বিরোধ অনেক সময় সামান্য বিষয় থেকে বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নেয়। তাই যেকোনো বিরোধ আলোচনার মাধ্যমে শান্তিপূর্ণভাবে সমাধানের পাশাপাশি পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া প্রয়োজন। দামুড়হুদার এ ঘটনায়ও তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।


এ সম্পর্কিত আরো খবর