ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

নবাবগঞ্জে আনসার-ভিডিপির উদ্যোগে তালগাছ রোপণ


  • আপলোড সময় : সোমবার ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:১৩ পিএম

 দিনাজপুর প্রতিনিধি 

দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে তালগাছ রোপণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) উপজেলার খয়েরগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসংলগ্ন রাস্তার ধারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।


কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিদ্যালয়সংলগ্ন সড়কের বিভিন্ন স্থানে তালগাছের চারা রোপণ করা হয়। এ সময় পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা এবং বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে তালগাছের গুরুত্ব সম্পর্কে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন করা হয়।


তালগাছ দীর্ঘদিন টিকে থাকার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় গ্রামাঞ্চলে তালগাছ রোপণের বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে সচেতনতা তৈরির চেষ্টা চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর উদ্যোগে নবাবগঞ্জে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হয়।


কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী, দিনাজপুরের জেলা কমান্ড্যান্ট (পিভিএম, পিভিএমএস) মো. নুরুজ্জামান। তিনি তালগাছসহ বিভিন্ন ধরনের দেশীয় বৃক্ষ রোপণের মাধ্যমে পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।


এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন নবাবগঞ্জ উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা মো. সোলায়মান হোসেন, খয়েরগুনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা মোছা. নারগিস বেগম এবং নবাবগঞ্জ উপজেলা প্রশিক্ষক ছত্র কুমার বিশ্বাস।


এ ছাড়া কর্মসূচিতে বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, সকল শিক্ষার্থী, ইউনিয়ন দলনেতা ও দলনেত্রী, আনসার কমান্ডার এবং স্থানীয় সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরাও তালগাছ রোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণসংলগ্ন সড়কের পাশে চারা রোপণের ফলে এলাকার পরিবেশ আরও সবুজ ও সুন্দর হবে বলে আশা প্রকাশ করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।


কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। নির্বিচারে গাছ কাটার কারণে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এ অবস্থায় বেশি করে গাছ লাগানোর পাশাপাশি রোপণ করা গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করাও জরুরি। পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ব শুধু কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নয়; এ দায়িত্ব সমাজের প্রতিটি মানুষের।


বজ্রপাতের ক্ষয়ক্ষতি কমাতেও তালগাছ রোপণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বজ্রপাতের ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় তালগাছসহ উপযোগী গাছ লাগানোর প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। তাই সড়কের পাশে, খোলা জায়গায় ও বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে পরিকল্পিতভাবে তালগাছ লাগানোর আহ্বান জানানো হয়।


উপস্থিত শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরিতে বিদ্যালয়ভিত্তিক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ছোটবেলা থেকেই শিক্ষার্থীদের গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হলে তারা ভবিষ্যতে পরিবেশ সংরক্ষণে আরও দায়িত্বশীল হয়ে উঠবে। এ ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা শুধু বৃক্ষরোপণেই অংশ নেয় না, বরং গাছের পরিচর্যা ও সংরক্ষণের বিষয়েও বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করে।


স্থানীয় বাসিন্দারাও এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান। তাদের মতে, রাস্তার পাশে তালগাছ রোপণের ফলে একদিকে যেমন এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে পরিবেশের জন্যও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তবে রোপণ করা চারাগুলো যাতে নষ্ট না হয়, সেদিকে নিয়মিত নজরদারি ও পরিচর্যা প্রয়োজন।


কর্মসূচিতে পরিবেশ রক্ষা, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়। বিশেষ করে বজ্রপাতের ঝুঁকি কমাতে তালগাছ রোপণ ও সংরক্ষণে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং স্থানীয় জনগণকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানান অংশগ্রহণকারীরা।


বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর এমন উদ্যোগ স্থানীয় পর্যায়ে পরিবেশ সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি বৃক্ষরোপণে সাধারণ মানুষকে উৎসাহিত করবে বলে আশা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর