রাজধানীর ফার্মগেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য নির্ধারিত বিশেষ নিরাপত্তা বেষ্টনীতে এক মোটরসাইকেল চালক অননুমোদিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা চালান। এ ঘটনায় আটক হওয়া মোটরসাইকেল চালক মুহিবুল্লাহ মুবিনকে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় ৫ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ঘটনা সূত্রে জানা যায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশের পরপরই নির্ধারিত অত্যন্ত সংবেদনশীল ও কঠোর নিরাপত্তা বলয় ভেদ করে ভেতরে ঢোকার চেষ্টা চালান ওই ব্যক্তি। তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে দায়িত্বরত আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সের সদস্যরা তাকে ধরে ফেলেন এবং জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেন। পরবর্তীতে বিস্তারিত তদন্তের জন্য তাকে উদ্ধার করে তেজগাঁও থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নিরাপত্তা ভঙ্গের এই গুরুতর ঘটনায় তেজগাঁও থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে একটি সুনির্দিষ্ট মামলা দায়ের করা হয়। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, তেজগাঁও থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আসাদুর রহমান গ্রেপ্তারকৃত আসামি মুহিবুল্লাহ মুবিনকে আদালতে হাজির করেন। ঘটনার নেপথ্য কারণ উদ্ধার, কোনো সংঘবদ্ধ চক্রের ইন্ধন রয়েছে কি না এবং তার প্রকৃত উদ্দেশ্য উদঘাটনে তাকে আদালতে উপস্থাপন করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন জানান তদন্তকারী কর্মকর্তা।
আদালতের শুনানিকালে রাষ্ট্রপক্ষে রিমান্ডের পক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আদালতে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বেষ্টনীতে অননুমোদিতভাবে প্রবেশের চেষ্টা চালানো সাধারণ কোনো বিষয় নয়। এর পেছনে কোনো বড় ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা কিংবা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র জড়িত রয়েছে কি না, তা খুঁজে বের করতে আসামিকে কঠোর জিজ্ঞাসাবাদ করা প্রয়োজন। তাই সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তার রিমান্ড মঞ্জুর করা অত্যন্ত জরুরি।’
অপরদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড আবেদনের বিরোধিতা করে তা বাতিলের আহ্বান জানান। একই সাথে তারা আসামির জামিনের পক্ষে আবেদন জানিয়ে আদালতে শুনানিতে অংশ নেন। আসামি পক্ষের যুক্তিতে তারা দাবি করেন, মোটরসাইকেল চালক ভুলবশত কিংবা অসাবধানতাবশত নিরাপত্তা বেষ্টনীর কাছাকাছি চলে এসেছিলেন, এখানে কোনো অপরাধমূলক বা সন্ত্রাসী উদ্দেশ্য ছিল না।
উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক এবং মামলার নথি বিস্তারিত পর্যালোচনা ও শুনানি শেষে বিজ্ঞ বিচারক ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ প্রদান করেন।
মামলা ও পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মতো রাষ্ট্রীয় অতীব গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির নিরাপত্তার সুনির্দিষ্ট প্রটোকল রয়েছে। সেই নিরাপত্তা বলয় পেরিয়ে হঠাৎ কেন ওই যুবক সেখানে প্রবেশের অপচেষ্টা চালালেন—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি কেবল এককভাবে এই কাণ্ড ঘটিয়েছেন নাকি এর পেছনে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠন বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র রয়েছে, রিমান্ডে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে সেই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হবে। এ ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট রাজপথ ও ভিআইপি চলাচলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।