ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসে বড় চ্যালেঞ্জ:

দেশে এখনো পৌনে চার কোটি মানুষ শিক্ষার বাইরে


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:০৯ এএম

দেশে সাক্ষরতার হার ৭৭ দশমিক ০৯ শতাংশে উন্নীত হলেও এখনো বিপুলসংখ্যক মানুষ শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত রয়েছে। সরকারি হিসাব ও অর্থনৈতিক সমীক্ষার সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ সম্পূর্ণ নিরক্ষর।

 

বাংলাদেশ অর্থনৈতিক সমীক্ষার তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট জনসংখ্যা বর্তমানে ১৭ কোটি ২২ লাখ ৮০ হাজার। এই বিশাল জনসংখ্যার মধ্যে সাত বছর ও তার চেয়ে বেশি বয়সের জনগোষ্ঠীর প্রায় ২২ দশমিক ৯১ শতাংশ মানুষ এখনো সাক্ষরতার আওতার বাইরে রয়ে গেছে।

 

এই বিশাল নিরক্ষর জনগোষ্ঠীর মধ্যে প্রধানত রয়েছে বিদ্যালয়বহির্ভূত ও ঝরে পড়া শিশুরা। এর পাশাপাশি শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত প্রাপ্তবয়স্ক নারী ও পুরুষের একটি বড় অংশও রয়েছে এই তালিকায়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যের ভিত্তিতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোও নিশ্চিত করেছে যে দেশে নিরক্ষর মানুষের সংখ্যা প্রায় পৌনে চার কোটি।

 

সরকারি সংজ্ঞায় সাক্ষরতার বিষয়টি শুধু অক্ষরজ্ঞান অর্জন বা নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। মাতৃভাষায় সহজ বাক্য পড়তে ও তা অনুধাবন করতে পারা, লিখিত ও মৌখিক ভাব প্রকাশ করা, দৈনন্দিন যোগাযোগ রক্ষা করা এবং মৌলিক গণনা করার সক্ষমতা অর্জনকেই প্রকৃত সাক্ষরতা বলে গণ্য করা হয়।

 

এমন পরিস্থিতিতে ২০৩০ সালের মধ্যে দেশকে সম্পূর্ণ নিরক্ষরমুক্ত করার যে লক্ষ্যমাত্রা সরকার নির্ধারণ করেছে, তা অর্জনের পথে এই বিপুল নিরক্ষর জনগোষ্ঠী একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারের এই লক্ষ্য বাস্তবে রূপ দিতে হলে দ্রুত ও সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।

 

শিক্ষাবিদদের মতে, ২০৩০ সালের লক্ষ্য অর্জনে প্রথম পদক্ষেপ হওয়া উচিত দেশের নিরক্ষর মানুষের একটি সুনির্দিষ্ট ও হালনাগাদ তথ্যভাণ্ডার বা তালিকা তৈরি করা। এরপর জাতীয় পর্যায় থেকে শুরু করে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডভিত্তিক সুনির্দিষ্ট কৌশলগত পরিকল্পনার মাধ্যমে তাদের সাক্ষরতার আওতায় আনার উদ্যোগ নিতে হবে।

 

এই বিষয়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমেদ মন্তব্য করেছেন, সাক্ষরতার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে। তবে এখনো প্রায় পৌনে চার কোটি মানুষ নিরক্ষর থাকা দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের জন্য বড় একটি চ্যালেঞ্জ।

 

তিনি আরও বলেন, নিরক্ষরতা পুরোপুরি দূর করতে হলে প্রথমেই কোনো ধরনের বিলম্ব ছাড়া নিরক্ষর মানুষের একটি সঠিক ও হালনাগাদ তালিকা তৈরি করতে হবে। তালিকা তৈরির পর প্রতিটি এলাকা ধরে ধরে বড় ধরনের সরকারি ও বেসরকারি যৌথ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

 

এমন এক বাস্তবতার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও প্রতিবছর দিবসটি পালিত হয়। এবারের আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবসের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।

 

দেশে নিরক্ষরতা দূরীকরণে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ এবং সার্বিক পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ তাঁর বক্তব্য তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সাক্ষরতার হার বৃদ্ধিতে বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে দৃশ্যমান ও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে।

 

প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, এ অর্জন সত্ত্বেও একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য জনগোষ্ঠী এখনো কাঙ্ক্ষিত শিক্ষা এবং মৌলিক দক্ষতার সুযোগ থেকে বঞ্চিত রয়েছে। পিছিয়ে পড়া সেই জনগোষ্ঠীর কাছে মানসম্মত শিক্ষার আলো ও সুযোগ পৌঁছে দিতে বর্তমান সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

 

এদিকে নিরক্ষরতা দূর করতে উপানুষ্ঠানিক শিক্ষার পরিধি আরও প্রসারিত ও বিস্তৃত করার ব্যাপক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা ব্যুরোর পরিচালক (পরিকল্পনা, মনিটরিং ও মূল্যায়ন) ড. ফারুক আহাম্মদ।

 

তিনি জানান, নিরক্ষর জনগোষ্ঠীকে দ্রুত শিক্ষার আলোয় আনতে নতুন একাধিক সমন্বিত কর্মসূচি হাতে নেওয়া হচ্ছে। এসব কর্মসূচির সফল বাস্তবায়ন সম্ভব হলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর