ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২ কমলা হ্যারিসের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা, পুলিশি নিরাপত্তা জোরদার

চট্টগ্রাম বন্দরে ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সভর্তি কন্টেইনার নিখোঁজ


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ০৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:০৪ পিএম

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সভর্তি একটি ৪০ ফুট কন্টেইনারের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। কাস্টমসের কার্যক্রম সম্পন্ন এবং বন্দরের নির্ধারিত রাজস্ব ও অন্যান্য চার্জ পরিশোধের পরও কন্টেইনারটি খালাস করতে না পারায় বিপাকে পড়েছে সাভারের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান গোল্ড স্টার গার্মেন্টস। কাঁচামাল সময়মতো হাতে না পাওয়ায় উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আমদানিকারকের পক্ষে কাস্টমস কার্যক্রম পরিচালনাকারী সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেটের অভিযোগ, বন্দরের ইয়ার্ডে খোঁজ করেও কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করা যাচ্ছে না। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. হাফিজুর রহমান চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।


সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭ নম্বরের কন্টেইনারটি গত ১৫ আগস্ট ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ জাহাজে করে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে আসে। জাহাজ থেকে নামানোর পর নিয়ম অনুযায়ী কন্টেইনারটি বন্দরের ইয়ার্ডে স্থানান্তর করা হয়। এরপর নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে সেটি খালাসের উদ্যোগ নেয় আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান।


গোল্ড স্টার গার্মেন্টসের পক্ষে সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এসআরএস সিন্ডিকেট গত ২২ আগস্ট কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে। পরে প্রয়োজনীয় কাস্টমস প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়। একই সঙ্গে বন্দরের রাজস্ব ও অন্যান্য নির্ধারিত চার্জও পরিশোধ করা হয়। সব ধরনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর কন্টেইনারটি ডেলিভারি নেওয়ার প্রস্তুতি নেয় আমদানিকারক পক্ষ।


গত ৩০ আগস্ট কন্টেইনারটি খালাসের উদ্দেশ্যে বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ডে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সেটি ডেলিভারি দিতে পারেনি। তখন সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করে খুঁজে বের করার জন্য বলা হয়। এরপর ৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনুসন্ধান চালানো হলেও কন্টেইনারটির কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি বলে দাবি করেছে এসআরএস সিন্ডিকেট।


কন্টেইনারটির অবস্থান সম্পর্কে জানতে বিষয়টি টার্মিনাল ম্যানেজার, অ্যাসিস্ট্যান্ট টার্মিনাল অফিসার (এটিও) ও টার্মিনাল অফিসারকে জানানো হয়। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ ও অনুসন্ধানের পরও কন্টেইনারটির অবস্থান নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। পরে গত ২ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এসআরএস সিন্ডিকেটের মালিক মো. হাফিজুর রহমান।


অভিযোগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, কন্টেইনারটিতে থাকা ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সের মূল্য প্রায় তিন কোটি টাকা। এসব ফেব্রিক্স শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক তৈরির কাঁচামাল হিসেবে আমদানি করা হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পাওয়া গেলে উৎপাদন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বিদেশি ক্রেতাদের কাছে সময়মতো রপ্তানি পণ্য পাঠানো নিয়েও জটিলতা তৈরি হতে পারে।


আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের আশঙ্কা, কাঁচামাল সরবরাহে বিলম্ব হলে উৎপাদন পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রপ্তানি পণ্য প্রস্তুত ও বিদেশি ক্রেতাদের কাছে পাঠাতে ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে। এ কারণে দ্রুত কন্টেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে আমদানিকারক পক্ষ।


তবে কন্টেইনারটি ঠিক কোন পর্যায়ে এবং কীভাবে অদৃশ্য হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ইয়ার্ডে স্থানান্তর, সংরক্ষণ কিংবা ডেলিভারি প্রক্রিয়ার কোনো পর্যায়ে এ ঘটনা ঘটেছে কি না, তদন্ত শেষ হলে বিষয়টি স্পষ্ট হতে পারে।


চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম বলেন, “কন্টেইনার নিখোঁজের বিষয়ে একটি চিঠি আমরা পেয়েছি। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে।”


তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কন্টেইনারটির অবস্থান বা নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। বন্দর কর্তৃপক্ষের তদন্তে কন্টেইনারটির অবস্থান ও পুরো ঘটনার প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর