ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬,  ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

প্রথমে মৃত্যুদণ্ড, পরে সাজা কমে ১০ বছর: অবশেষে হাজতে ১০৪ বছরের বৃদ্ধ


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:১১ এএম

কিশোরগঞ্জে দুই যুগ (২৪ বছর) আগে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতি ও জোড়া হত্যা মামলায় ১০ বছরের সাজাপ্রাপ্ত ১০৪ বছর বয়সী আসামি নুর মোহাম্মদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) তিনি ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন জানালে বিচারক ফারজানা ইয়াসমিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাঁকে হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

নুর মোহাম্মদের আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ তাঁর শারীরিক জটিলতা, বয়স ও নিয়মিত চিকিৎসার বিষয় তুলে ধরে আপিলের শর্তে জামিন প্রার্থনা করেন। এমনকি বয়সের ভারে চলাচলে অক্ষম হওয়ায় নুর মোহাম্মদকে নিজের খরচে বিশেষ পরিবহনে কারাগারে যাওয়ার অনুমতি চাওয়া হলেও আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করেননি। আদালতের বেঞ্চ সহকারী মিজানুর রহমান এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় ফেরদৌসের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে এক ভয়াবহ ডাকাতির ঘটনা ঘটে। ডাকাতদল মোশাররফ হোসেন ও আবদুল কবির নামের দুজনকে নির্মমভাবে হত্যা করে সিন্দুক থেকে প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টাকা এবং ১১ো ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়। ঘটনার পর দোকান মালিক ফেরদৌস কিশোরগঞ্জ থানায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট জমা দেয় পুলিশ। পরবর্তীতে বিচারিক কাজের সুবিধার্থে মামলাটি কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করা হয়।

 

২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর দেওয়া রায়ে ট্রাইব্যুনাল নুর মোহাম্মদসহ ৮ জনকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন। সে সময় নুর মোহাম্মদ ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর জামিন নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান এবং পলাতক থাকা অবস্থাতেই রায় ঘোষিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট হাইকোর্ট ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে নুর মোহাম্মদের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ডে রূপান্তর করেন। দীর্ঘ আত্মগোপন শেষে মঙ্গলবার ১০৪ বছর বয়সে আদালতে আত্মসমর্পণ করলেও কোনো আইনি স্বস্তি পাননি সাজাপ্রাপ্ত এই আসামি।


এ সম্পর্কিত আরো খবর