ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় শক্তিশালী স্থানীয় সরকারের বিকল্প নেই: ড. আবদুল মঈন খান স্থানীয় সরকার নির্বাচনে শিক্ষাগত যোগ্যতার বাধ্যবাধকতা নেই: মীর শাহে আলম দুপুরের মধ্যেই বিদ্যুৎ পাচ্ছে বাংলাদেশ: কমবে লোডশেডিং এমপিও শিক্ষকদের নির্বাচন ভাগ্য নির্ধারণ করবে ইসি: মীর শাহে আলম সরকারি কেনাকাটায় পুকুরচুরি ঠেকাতে আসছে অভিন্ন একক দরতালিকা সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ তারুণ্য না অভিজ্ঞতা: ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব চয়নে জটিল হিসাব-নিকাশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন চ্যালেঞ্জের রিট খারিজ হাইকোর্টে ইন্দোনেশিয়ায় ২৪০ যাত্রী নিয়ে জাহাজ নিখোঁজ ঠাকুরগাঁও সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে বাংলাদেশি নিহত, আটক ২

কুড়িয়ে পাওয়া টাকা ফেরত দিয়ে বিরল দৃষ্টান্ত গড়লেন পাভেল


  • আপলোড সময় : বুধবার ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১২:৩৯ পিএম

রাস্তায় কুড়িয়ে পাওয়া সাড়ে ৪ লাখ টাকা না আত্মসাৎ করে প্রকৃত মালিককে ফিরিয়ে দিয়ে অনন্য সততা ও মানবিকতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার যুবক পাভেল খন্দকার। তাঁর এই বিরল সততার প্রশংসায় পঞ্চমুখ স্থানীয়রা।

 

ঘটনা সূত্রে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার দাঁতমণ্ডল গ্রামের বাসিন্দা মো. নাঈম খান মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথিমধ্যে মাধবপুর উপজেলার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রতনপুর এলাকা অতিক্রম করার সময় অসাবধানতাবশত তাঁর কাছে থাকা একটি গুরুত্বপূর্ণ সাইড ব্যাগ রাস্তায় পড়ে যায়। ব্যাগটির ভেতরে ছিল নগদ প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টাকা।

 

কিছুক্ষণ পর গন্তব্যে যাওয়ার পথে ব্যাগ হারানোর বিষয়টি টের পেয়ে চরম উৎকণ্ঠায় পড়েন নাঈম। তিনি দ্রুত ঘটনাস্থল ও এর আশপাশের এলাকায় ব্যাকুল হয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করলেও ব্যাগটির কোনো খোঁজ পাচ্ছিলেন না।

 

ঠিক সেই সময় মহাসড়ক দিয়ে যাওয়ার পথে পড়ে থাকা ব্যাগটি দেখতে পান শিমুলঘর গ্রামের বাসিন্দা পাভেল খন্দকার। ব্যাগে বিপুল অংকের অর্থ থাকা সত্ত্বেও প্রলোভনে না পড়ে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৃত মালিকের সন্ধান শুরু করেন।

 

পরবর্তীতে সঠিক পরিচয় ও টাকার প্রকৃত মালিকানা শতভাগ নিশ্চিত হওয়ার পর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সাংবাদিক মুফতী মোযযাম্মিল হক মাছুমীর উপস্থিতিতে পুরো সাড়ে ৪ লাখ টাকা নাঈম খানের হাতে নিরাপদভাবে তুলে দেন পাভেল।

 

হারানো পুরো অর্থ অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন নাঈম খান। নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, "টাকা ফিরে পাওয়ার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। পাভেলের অসামান্য সততার কারণেই আজ এত বড় আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেলাম।"

 

অন্যদিকে এই প্রশংসনীয় উদ্যোগ প্রসঙ্গে পাভেল খন্দকার অত্যন্ত বিনীতভাবে জানান, টাকাটা যেহেতু তাঁর নিজের নয়, তাই তা নিজের কাছে রেখে দেওয়ার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। যার আমানত, তাঁর কাছে পৌঁছে দেওয়াই তিনি নিজের নৈতিক দায়িত্ব মনে করেছেন। পাভেলের এই অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থানীয় সমাজের সর্বস্তরের মানুষের কাছে কুড়ায়েছে ভূয়সী প্রশংসা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর