কৃত্রিম
বুদ্ধিমত্তা বা এআই-এর
প্রযুক্তিগত বিপ্লবের মুখে বিশ্ব নিরাপত্তা বিধানে কোনো ধরনের শিথিলতা কিংবা উদাসীনতা সহ্য করবে না বলে চরম
সতর্কবার্তা দিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি গভীরভাবে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, এআই প্রযুক্তির সম্ভাব্য ঝুঁকি ও প্রভাব বোঝার
ক্ষমতা মানুষের যে পর্যায়ে রয়েছে,
তার চেয়ে বহু গুণ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে এর বিকাশ।
তাই
অনভিপ্রেত যেকোনো বিপর্যয় এড়াতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এখনই একটি সমন্বিত ও শক্তিশালী নিরাপত্তা
ব্যবস্থা গড়ে তোলা জরুরি। বিশ্বজুড়ে উদীয়মান নানা সংকট ও প্রযুক্তিগত হুমকি
তুলে ধরে তিনি সম্প্রতি এই গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য
প্রদান করেন, যা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদন
সূত্রে জানা গেছে, গত বুধবার (১৬
সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে
বিশ্ব মিডিয়ার মুখোমুখি হয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কিত বহুমাত্রিক উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তা আন্তোনিও গুতেরেস। বক্তব্যে তিনি অবশ্য স্বীকার করেন যে, সঠিকভাবে ব্যবহার করা গেলে আধুনিক এআই প্রযুক্তি মানব সভ্যতার জন্য অভূতপূর্ব কল্যাণ বয়ে আনতে সক্ষম। বিশ্বজুড়ে টেকসই উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, প্রান্তিক পর্যায়ে শিক্ষার সুযোগ বিস্তৃত করা, স্বাস্থ্যখাতকে সর্বাধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ও শক্তিশালী করা
এবং বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়াতে এআইয়ের অপার সম্ভাবনা বিদ্যমান।
তবে
সুবিধার পাশাপাশি এর ধ্বংসাত্মক দিক
ও নিয়ন্ত্রণহীনতা নিয়ে জাতিসংঘ মহাসচিব চরম শঙ্কা প্রকাশ করেন। গুতেরেসের মতে, বর্তমানে এআই তৈরির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত বিশ্বমানের উদ্ভাবক, বিশেষজ্ঞ এবং প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাই ক্রমশ উচ্চকণ্ঠে নিজেদের উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তাদের প্রধান আশঙ্কা হলো—এআই প্রযুক্তির যে গতিতে বৈপ্লবিক
পরিবর্তন ঘটছে, সেই হারে এর তৈরি করা
ঝুঁকি ও নিরাপত্তা হুমকি
নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উপলব্ধি এবং বোঝাপড়া তৈরি হয়নি। ফলে উদ্ভাবনের এই বিশাল গতির
সঙ্গে সুর মিলিয়ে সম্ভাব্য বিপদ চিহ্নিত করতে না পারলে মানুষ
এক অপ্রস্তুত পরিস্থিতির শিকার হবে।
গুতেরেস
আরও গুরুত্বারোপ করে উল্লেখ করেন যে, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে এআই নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে প্রবল ভূরাজনৈতিক বিভাজন মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলের নানা প্রলোভন তৈরি হচ্ছে। কিন্তু নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানদণ্ড শিথিল করে নিজেদের মধ্যে কোনো আত্মঘাতী দৌড় বা অনৈতিক প্রতিযোগিতায়
মেতে ওঠার সুযোগ বিশ্বের নেই। তিনি বলেন, মানবজাতি ও এই প্রযুক্তির
মধ্যকার মৌলিক ভারসাম্য রক্ষা করতে গেলে দ্রুততম সময়ে শক্তিশালী নিরাপত্তা কাঠামো বা প্রতিরক্ষামূলক ‘গার্ডরেল’ স্থাপন
করতে হবে। বিশ্বকে এআই ব্যবহারে আস্থা ফেরাতে হলে প্রযুক্তিটিকে সার্বিকভাবে সুরক্ষিত, উন্মুক্ত, স্বচ্ছ এবং নৈতিকভাবে জবাবদিহিমূলক হতে হবে। সর্বোপরি সব ধরনের নীতি
প্রণয়ন ও প্রযুক্তির বাস্তবায়নে
সর্বাগ্রে 'মানবিক মর্যাদা' কে অগ্রাধিকার দিয়ে
এগিয়ে যাওয়ার জন্য বিশ্বের সকল দেশের সরকারের প্রতি তিনি কার্যকর আহ্বান জানান।