প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত আশ্বাস ও সরাসরি পর্যবেক্ষণের পর শিল্প-কারখানা ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট কাটাতে শুরু করেছে। সাভার, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের শিল্পাঞ্চলের তৈরি পোশাক কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ বাড়ার পাশাপাশি স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতেও। একই সাথে দেশীয় উৎস থেকে উৎপাদন বাড়িয়ে সরবরাহ সুসংহত করতে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) আওতাধীন তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আগামী শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) প্রতিদিন সাড়ে ১২ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হতে যাচ্ছে।
গত অন্তত এক মাস ধরে তীব্র গ্যাস সংকটে ভুগেছেন শিল্প-কারখানার মালিকেরা। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সরাসরি শিল্পে গ্যাস সরবরাহের বিষয়টি তদারকি শুরুর পর আশুলিয়ার সামান্য কিছু এলাকা ব্যতীত প্রায় সব কারখানাতেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। একই সাথে রাজধানীর সিএনজি স্টেশনগুলোতে দীর্ঘ সারি কমে দ্রুত জ্বালানি মিলছে। উদ্ভূত এই ইতিবাচক পরিবর্তনের মধ্যে আমদানি-নির্ভরতা কমাতে দেশীয় নতুন ও পুরোনো কূপ থেকে গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ সফলতার মুখ দেখছে। প্রায় ১৩ হাজার ফুট গভীরতার তিতাস-২৮ নম্বর কূপটির সফল খনন শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধনের পরপরই তা গ্রিডে যুক্ত করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, জাতীয় চাহিদার যোগান দিতে উন্নয়নমূলক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। আগামী তিন থেকে চার মাসের মধ্যে তিতাস-২৯, ৩০ ও ৩১ নম্বর কূপ এবং বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে আরও অন্তত ৫৫ মিলিয়ন ঘনফুট নতুন গ্যাস যুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়ায় রয়েছে। সব মিলিয়ে এই পাঁচটি উন্নয়ন ও অনুসন্ধান কূপ থেকে দৈনিক সর্বোচ্চ প্রায় সাড়ে ৬৭ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস দেশের জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
বিজিএফসিএলের তিতাস ও কামতা ফিল্ডের প্রায় ৮০০ কোটি টাকার প্রকল্পের আওতায় তিতাস-২৯ নম্বর কূপের মূল খননকাজ সম্পন্ন হওয়ায় আগামী এক থেকে দেড় মাসের মধ্যে সেখান থেকে প্রতিদিন ১০ থেকে ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাবে। পরবর্তী তিন-চার মাসের মধ্যে প্রস্তুত হতে যাওয়া তিতাস-৩০ নম্বর কূপ থেকেও সমপরিমাণ গ্যাস পাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। তা ছাড়া ৪ হাজার ৯২০ মিটার গভীরতায় থাকা তিতাস-৩১ নম্বর গভীর অনুসন্ধান কূপটির কাজ আগামী দুই-তিন মাসে সম্পন্ন হলে সেখান থেকে দৈনিক অন্তত ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট এবং পরবর্তীতে বাখরাবাদ-১১ নম্বর কূপ খনন শেষে আরও ১০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস যোগ হবে।
বর্তমানে তিতাস গ্যাসক্ষেত্রে আনুমানিক দেড় ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) গ্যাসের মজুত অবশিষ্ট থাকলেও তিতাস-৩১ গভীর কূপে সফল পরীক্ষার পর নতুন করে আরও অন্তত ২ টিসিএফ গ্যাসের মজুত উন্মোচিত হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা দেখছেন প্রকৌশলীরা। এসব কূপের সফল সংযোজন দেশের ক্রমবর্ধমান শিল্প উৎপাদন ও বাসাবাড়ির সার্বিক জ্বালানি নিরাপত্তাকে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে যাবে।
আকাশজমিন / আরআর