রাজধানীর ব্যস্ততম মালিবাগ রেলগেট সংলগ্ন সড়কে জুমার নামাজ শেষ হতেই আকস্মিক ককটেল বিস্ফোরণে এলাকা জুড়ে চরম আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সোহাগ পরিবহনের টিকিট কাউন্টারের একদম পাশেই পর পর দুইটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে একদল অজ্ঞাতনামা দুর্বৃত্ত। হঠাৎ এমন উচ্চশব্দে বিস্ফোরণের ঘটনায় পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি পড়ে গেলেও ভাগ্যক্রমে এতে কোনো ব্যক্তি হতাহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আলামত সংগ্রহ করেন এবং পুরো এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জাহিদ ককটেল বিস্ফোরণের বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, জনমনে আতঙ্ক তৈরি করতে কোনো একটি চক্র এই অনাকাঙ্ক্ষিত বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে আশেপাশের ভবন ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ শুরু হয়েছে, যাতে ঘটনায় জড়িত দুর্বৃত্তদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়।
এদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে রাজধানীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণের কারণে সাধারণ মানুষের মাঝে ভীতি ক্রমেই বাড়ছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) গভীর রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস এলাকাতেও প্রায় একইভাবে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট খবর পাওয়া যায়। সেদিন রাত পৌনে ১১টার দিকে ঐতিহ্যবাহী জগন্নাথ হলের প্রধান ফটকের পাশে পর পর দুইটি এবং এর কিছুক্ষণ পরই ব্যস্ততম টিএসসি মোড় এলাকায় আরও একটি ককটেল ফুটিয়ে আতঙ্কের জন্ম দেয় দুর্বৃত্তরা। শুধু বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা নয়, একই দিনে দুপুরে সুপ্রিম কোর্ট সংলগ্ন হাইকোর্ট এলাকাতেও একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল। পর পর ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সার্বিক নিরাপত্তা নিয়ে নগরবাসীর মনে নানা সংশয় ও প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে।
আকাশজমিন / আরআর