ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
পেশকার-কেরানিদের কোটি টাকার সাম্রাজ্য, আদালতে বিচারহীনতার করুণ চিত্র! মার্কিন রণতরিতে ফুটবল জাদুকর, তিন দশক পর ছড়ালো ম্যারাডোনার ছবি পাকিস্তানে পুলিশ সদর দপ্তরে রক্তক্ষয়ী হামলা, নিহত বেড়ে ৩১ স্বর্ণের বাজারে নতুন রেকর্ড, ভরিতে বাড়লো প্রায় ১৭০০ টাকা শুল্ক কমাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতার পথে মেক্সিকো ফ্যাশন আইকন ও কালজয়ী নায়ক সালমান শাহের আজ জন্মদিন গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তায় ডেনমার্ক-যুক্তরাষ্ট্রের নতুন উদ্যোগ জ্বালানি সংকটে কিউবায় ফের দেশজুড়ে অন্ধকার ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ গোলে হারাল বায়ার্ন মিউনিখ সিএনএনসহ ৩ সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করলেন ট্রাম্প

অবৈধ ও লুণ্ঠিত অস্ত্রের তথ্য দিলেই সরকারি পুরস্কার: এসআরবি


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৬:৪৭ পিএম

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা লুণ্ঠিত ও অবৈধ মারাত্মক অস্ত্রের গোপন আস্তানা খুঁজে বের করতে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছে বিশেষায়িত বাহিনী স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)। একই সঙ্গে সঠিক ও নির্ভুল তথ্য প্রদানকারীর পরিচয় কঠোরভাবে গোপন রাখা এবং সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তাঁকে উপযুক্ত অর্থ পুরস্কার প্রদানের সুস্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত এসআরবি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক জনাকীর্ণ সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের নানা প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে এই তথ্য প্রকাশ করেন বাহিনীর আইন ও গণমাধ্যম শাখার সম্মানিত পরিচালক উইং কমান্ডার এ জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী।


উইং কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, থানা থেকে খোয়া যাওয়া এবং অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হাতবদল হওয়া অস্ত্র উদ্ধার নিশ্চিত করতে সরকার ও এসআরবির পক্ষ থেকে বর্তমানে সমন্বিত ও বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। যৌথ এই সাঁড়াশি অভিযানে বাংলাদেশ পুলিশ, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী এবং এসআরবির সদস্যরা অংশ নিয়ে ইতোমধ্যে বহুসংখ্যক আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। তবে এই যৌথ উদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও বেশি ত্বরান্বিত ও সফল করতে সাধারণ মানুষের আন্তরিক ও সুনির্দিষ্ট তথ্য সহায়তা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।


তিনি উল্লেখ করেন যে দেশের খুলনা, রাজশাহী ও চট্টগ্রামসহ বেশ কয়েকটি জেলায় অবৈধ অস্ত্রের উপস্থিতি সম্পর্কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে প্রাথমিক কিছু তথ্য রয়েছে। কিন্তু পর্যাপ্ত স্থানগত তথ্যের অভাবে অনেক সময় সেই অস্ত্রগুলো সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত ও জব্দ করা কঠিন হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কোনো সাধারণ নাগরিক যদি বিশৃঙ্খলার সুযোগে কিংবা অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে থানা থেকে অস্ত্র বা গুলি সরিয়ে থাকেন এবং পরবর্তীতে আইনি জটিলতার ভয়ে তা ফেরত দিতে দ্বিধান্বিত থাকেন, তাঁদের ভয় না পেয়ে তথ্য জানানোর অনুরোধ করেন এই কর্মকর্তা। তিনি আশ্বস্ত করে বলেন, কেবল অস্ত্রের অবস্থান—যেমন কোনো নির্দিষ্ট স্থানে দুটি পিস্তল, একটি রাইফেল কিংবা ১০টি ম্যাগাজিন রাখা আছে—এইটুকু সুনির্দিষ্ট তথ্য দেওয়াই যথেষ্ট। তথ্যদাতার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের পাশাপাশি তাঁকে সরকারি পুরষ্কার প্রদান করা হবে এবং আইনি প্রক্রিয়ার সময় বিষয়টি ইতিবাচক দৃষ্টিতে বিবেচনা করা হবে।


একই সংবাদ সম্মেলনে রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকার আশঙ্কাজনক অপরাধ চিত্র তুলে ধরে ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, এলাকাভিত্তিক অপরাধ দমন করা একটি ধারাবাহিক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া এবং রাতারাতি এর আমূল পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে মোহাম্মদপুরের অপরাধপ্রবণতা নির্মূলে এসআরবি তাদের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষ টহল, অতিরিক্ত কর্মকর্তা মোতায়েন, গভীর গোয়েন্দা নজরদারি এবং আধুনিক সাইবার ট্র্যাকিং জোরদার করেছে। পুলিশসহ অন্যান্য সকল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই মোহাম্মদপুরকে পুরোপুরি অপরাধমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আকাশজমিন /  আরআর    


এ সম্পর্কিত আরো খবর