রংপুর প্রতিনিধি
জামায়াতে ইসলামীর ঘোষিত লং মার্চ কর্মসূচি কার্যত রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগকে পুনরায় মাঠে নামার সুযোগ তৈরি করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খান। একই সঙ্গে লং মার্চের নামে রাজপথ বন্ধ করে চরম জনভোগান্তি সৃষ্টি, দেশ পরিচালনায় সরকারকে অসহযোগিতা করা এবং জাতীয় জ্বালানির অপচয় ঘটানো হচ্ছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদকে গুলি করে হত্যার ঐতিহাসিক ঘটনাস্থল—বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নম্বর গেট পরিদর্শন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন। এর আগে সকালে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামীর উপস্থাপিত প্রায় সমস্ত দাবি ইতিমধ্যে সরকার বাস্তবায়ন করেছে। তা সত্ত্বেও এমন অযৌক্তিক ও সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত ঘটিয়ে জনদুর্ভোগ বাড়ায়—এমন রাজপথের কর্মসূচি পালন করা মোটেও সমীচীন নয়। তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মসূচি পালনের অধিকার সবারই রয়েছে এবং বর্তমান সরকার ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়ায় এই কর্মসূচিতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করেছে। কিন্তু অধিকার প্রয়োগের নামে সড়কপথ অচল করা এবং জ্বালানির অপচয় কোনোভাবেই কাম্য হতে পারে না।
রাশেদ খান সতর্ক করে বলেন, জামায়াত যখন সরকারের দেশ পরিচালনায় অসহযোগিতাপূর্ণ পরিবেশ বা অহেতুক রাজপথের স্থবিরতা তৈরি করে, তখন তা আওয়ামী লীগকে নতুন করে রাজনীতিতে মাঠে নামার সুযোগ করে দেয়। সরকার যখন দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে, তখন এমন কর্মসূচির খেসারত শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষকেই দিতে হয়। যেকোনো রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত থাকতেই পারে, তবে সেই অধিকার চর্চার ক্ষেত্রে জনস্বার্থ ও জনদুর্ভোগের বিষয়টি মাথায় রাখার জোর তাগিদ দেন তিনি।
রংপুরে শহীদ আবু সাঈদের শহীদী স্থান পরিদর্শনের সময় রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ফেরদৌস রহমানসহ স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
আকাশজমিন / আরআর