সুনামগঞ্জের
তাহিরপুরে এক মর্মান্তিক ও
হৃদয়বিদারক ঘটনায় তিন শিশু সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে বিষপান করেছেন এক বাবা। রাতের
কোনো এক সময়ে সংঘটিত
এই নির্মম ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যেই নিভে গেছে তিনটি নিষ্পাপ শিশুর তাজা প্রাণ। অন্যদিকে বিষক্রিয়ায় মুমূর্ষু অবস্থায় ওই পিতাকে উদ্ধার
করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। শনিবার ভোররাতে উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে ভয়াবহ এই ঘটনাটি ঘটে।
একই পরিবারের তিনটি শিশুর এমন আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুতে
পুরো এলাকায় গভীর শোক ও নিস্তব্ধতা নেমে
এসেছে।
ঘটনার
বিবরণ, পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের
তথ্যানুযায়ী, শুক্রবার গভীর রাতে নিজ
বসতঘরে ওই বাবা তার
তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে দেন। সন্তানদের বিষ পান করানোর পরপরই তিনি নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন।
শনিবার সকালে পরিবারের সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশী
ও নিকটাত্মীয় স্বজনদের মনে সন্দেহ জাগে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতর গিয়ে তারা চারজনকেই নিস্তেজ ও মুমূর্ষু অবস্থায়
দেখতে পান। ঘরের করুণ দৃশ্য দেখে তারা দ্রুত চারজনকেই উদ্ধার করে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
ডা.
হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানকার চিকিৎসক
নিবিড় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তিন শিশুকেই মৃত বলে ঘোষণা করেন। ততক্ষণে বিষক্রিয়ার কারণে তিন শিশুর শরীর নিথর হয়ে পড়েছিল। তবে গুরুতর আহত বাবার অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন হওয়ায় ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাকে তাত্ক্ষণিক প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করে দ্রুত উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে স্বজনরা তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করান, যেখানে তিনি মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।
খবর
পেয়ে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাতসহ পুলিশের একটি চৌকস দল খুব সকালেই
ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে পৌঁছায় এবং শিশুদের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। মর্মান্তিক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত জানান, খুব ভোরে সংবাদ পেয়ে আমরা বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্সে গিয়ে তিন শিশুর নিথর মরদেহ দেখতে পাই। এছাড়া গুরুতর আহত বাবাকে স্বজনরা উন্নত চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে গেছেন।
আইনগত
প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি মরদেহগুলোর ময়নাতদন্তের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। বাদাঘাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ হোসাইন মোহাম্মদ আরাফাত এ বিষয়ে আরও
জানান যে, ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে শিশুদের লাশ উদ্ধার করে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হচ্ছে। হঠাৎ করে কেন বা কী পরিস্থিতিতে
একজন পিতা নিজ সন্তানকে বিষ খাইয়ে নিজে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন,
সেই রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। স্থানীয় অধিবাসী ও স্বজনদের সঙ্গে
কথা বলে এই ভয়াবহ ঘটনার
পেছনে মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে।