ঢাকার অদূরে প্রধান শিল্পাঞ্চল হিসেবে পরিচিত আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় আকস্মিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
ঘটনাসূত্রে জানা গেছে, সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে হঠাৎ করেই জামগড়ার ওই পোশাক কারখানার একটি অংশে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।
তবে জরুরি অগ্নিনির্বাপণ কাজে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে এলাকার যানজট পরিস্থিতি। আশুলিয়া ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর সোমেন বড়ুয়া বলেন, বাইপাইল সড়কে ব্যাপক যানবাহনের চাপ ও প্রচণ্ড যানজট থাকায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়িগুলো সময়মতো দুর্ঘটনাস্থলে গিয়ে পৌঁছাতে মারাত্মক বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা সরাসরি ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা এবং আগুনের ভয়াবহতা সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে বিস্তারিত তথ্য প্রদান করতে পারবেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধারকারী দলগুলো সড়কের যানজট ঠেলে দ্রুততম সময়ে দুর্ঘটনাকবলিত কারখানায় পৌঁছানোর সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
শিল্পাঞ্চল আশুলিয়া ও তার আশপাশের এলাকাগুলোতে বিপুল সংখ্যক পোশাক কারখানা অবস্থিত হওয়ায় এ জাতীয় অগ্নিকাণ্ডের খবর ছড়াতেই গোটা জামগড়া এলাকায় এক থমথমে পরিবেশ তৈরি হয়। সান্ধ্যকালীন সময়ে কিছু কারখানায় শ্রমিকদের শিফট পরিবর্তন বা ওভারটাইম চলায় তাৎক্ষণিকভাবে লোকজনের মাঝে ছোটাছুটি শুরু হয়। বর্তমানে স্থানীয় অধিবাসীরা ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের যাতায়াত সুগম করতে এবং বাইপাইল সড়কে গাড়ির গতি স্বাভাবিক রাখতে স্বেচ্ছায় সহায়তা করার উদ্যোগ নিচ্ছেন।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি এবং কারখানার অভ্যন্তরে কোনো শ্রমিক আটকে পড়েছেন কি না তা ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে না পৌঁছানো পর্যন্ত নিশ্চিত হওয়া যাচ্ছে না। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক লক্ষ্য হচ্ছে দ্রুত জামগড়ায় অবস্থান নিয়ে আগুন যাতে পাশের কোনো ভবন বা কারখানায় ছড়িয়ে পড়তে না পারে তা নিশ্চিত করা। বাইপাইল সড়কের যানজট নিরসন করে অগ্নিনির্বাপক গাড়িগুলোর পথ সুগম করতে কাজ করছে পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা দুর্ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনার পর অগ্নিকাণ্ডের সুনির্দিষ্ট কারণ তদন্ত সাপেক্ষে জানা যাবে।