সামান্য একটি তর্কাতর্কি কীভাবে একটি তাজা প্রাণ কেড়ে নিতে পারে, তার মর্মান্তিক উদাহরণ রাখল ব্রাজিলের একটি ঘটনা। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলের তেরেসিনা শহরে তুচ্ছ এক বিষয় নিয়ে কথাকাটাকাটির জেরে বন্দুকধারীর গুলিতে প্রাণ হারিয়েছেন রাফেলা কাব্রাল নামের এক পরিচিত নারী ইনফ্লুয়েন্সার। গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তেরেসিনার স্যাটেলাইট এলাকার একটি ক্লাবের ভেতরে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রাফেলা কাব্রাল কেবল একজন সামাজিক মাধ্যম ব্যক্তিত্বই ছিলেন না, বরং বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী এই নারী পেশাগতভাবে একজন ম্যাসেজ থেরাপিস্ট ও কাইটসার্ফিং প্রশিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আইন বিষয়ে পড়াশোনা করছিলেন। ইনস্টাগ্রামে তাঁর ২৫ হাজারের বেশি অনুসারী ছিল, যারা তাঁর কনটেন্ট নিয়মিত পছন্দ করতেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন তেরেসিনার ওই ক্লাবে উপস্থিত ছিলেন রাফেলা। সেখানে হঠাৎ করেই একটি সাধারণ বিষয় নিয়ে ক্লাবের কিছু লোকজনের সঙ্গে তাঁর বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কথা কাটাকাটি রূপ নেয় হিংসাত্মক পরিস্থিতিতে। উত্তেজনার একপর্যায়ে আকস্মিকভাবে এক বন্দুকধারী রাফেলাকে লক্ষ্য করে গুলি ছুড়ে বসেন। ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি; পথেই তাঁর মৃত্যু হয়।
এই হৃদয়বিদারক ঘটনার পরপরই সিভিল পুলিশ এবং ফরেনসিক টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে। আলামত সংগ্রহের জন্য ক্লাবটি সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করে অপরাধীকে শনাক্তের தீவிர চেষ্টা চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত হামলাকারী পলাতক রয়েছে এবং পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, রাফেলা হত্যাকাণ্ডের আগের বা পরের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তেরেসিনা শহরে আরও দুটি খুনের ঘটনা ঘটেছে। তবে এই বিচ্ছিন্ন বা ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডগুলোর সঙ্গে রাফেলা হত্যাকাণ্ডের কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে পুলিশ এখনও নিশ্চিত কোনো মন্তব্য করেনি। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
এদিকে জনপ্রিয় এই কনটেন্ট ক্রিয়েটরের আকস্মিক ও নৃশংস মৃত্যুর খবরে তাঁর সামাজিক মাধ্যম অ্যাকাউন্ট ও ভক্তমহলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অজস্র অনুরাগী ও শুভানুধ্যায়ী তাঁর বিদায়ে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেছেন। ব্যক্তিগত জীবনে রাফেলা দুই কন্যাসন্তানের জননী ছিলেন, যারা এখন মায়ের স্নেহ থেকে চিরতরে বঞ্চিত হলো।