জ্বালানি বাজারের চলমান অস্থিতিশীলতার ধাক্কা এবার সরাসরি এসে লাগল যাত্রীদের যাতায়াত খরচে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির সার্বিক দিক বিবেচনা করে ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে নতুন কিলোমিটারপ্রতি ভাড়া নির্ধারণ করেছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। নতুন এই প্রজ্ঞাপনের ফলে সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াত ব্যয় কিছুটা বৃদ্ধি পেল।
সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের সহকারী সচিব মো. জসিম উদ্দিন গত মঙ্গলবার এই সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন। সাম্প্রতিক জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্তের পরই মূলত ভাড়া পুনর্নির্ধারণের এই উদ্যোগ নেওয়া হয়। নতুন এই প্রজ্ঞাপন প্রকাশের মধ্য দিয়ে ডিজেলচালিত গণপরিবহন খাতের আগের সমস্ত ভাড়াসংক্রান্ত আদেশ ও প্রজ্ঞাপন আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলো।
নতুন নির্ধারিত তালিকা অনুযায়ী, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগর এলাকার ভেতরে চলাচলকারী সাধারণ বাসের ক্ষেত্রে ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে প্রতি কিলোমিটারে দুই টাকা ৭০ পয়সা। পাশাপাশি আন্তঃজেলা ও দূরপাল্লার রুটে চলাচলকারী বাস ও মিনিবাসের যাত্রীদের এখন প্রতি কিলোমিটারের জন্য দুই টাকা ৪০ পয়সা হারে ভাড়া পরিশোধ করতে হবে।
এদিকে, ঢাকা ও চট্টগ্রাম মহানগরীর মিনিবাস এবং ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) আওতাধীন ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, নরসিংদী, গাজীপুর ও মানিকগঞ্জ জেলার অভ্যন্তরীণ রুটের বাস ও মিনিবাসের ভাড়া কিলোমিটারপ্রতি দুই টাকা ৬০ পয়সা ধার্য করা হয়েছে। তবে মহানগরী দুটিতে যাতায়াতকারী সাধারণ বাসের সর্বনিম্ন ভাড়া ১০ টাকা এবং মিনিবাসের সর্বনিম্ন ভাড়া আট টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের এই আদেশ কেবল ডিজেলচালিত বাস ও মিনিবাসের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। সিএনজি বা গ্যাসচালিত কোনো যানে নতুন এই ভাড়ার হার কার্যকর হবে না বলে প্রজ্ঞাপনে পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে গ্যাসচালিত যানগুলো তাদের পূর্বের নিয়মে বা নির্ধারিত ভাড়ায় চলাচল অব্যাহত রাখবে।
যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য বাড়াতে বাসের আসন সংখ্যা কমানো হলে ভাড়ার ক্ষেত্রে বিশেষ নিয়ম মানতে হবে। আরামদায়ক ভ্রমণের লক্ষ্যে বিআরটিএ-র অনুমোদিত আসন সংখ্যা কমিয়ে কোনো পরিবহন সংস্থা আসন পুনর্বিন্যাস করলে, নির্ধারিত ভাড়া আনুপাতিক হারে পুনর্নির্ধারণ করতে হবে। এই ধরনের পরিবর্তনের ক্ষেত্রে অবশ্যই রুট পারমিট অনুমোদনকারী কর্তৃপক্ষ অথবা নির্দিষ্ট যাত্রী ও পণ্য পরিবহন কমিটির কাছ থেকে আনুপাতিক ভাড়ার হার আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।
যাত্রীদের অধিকার সুরক্ষা ও বিশৃঙ্খলা রোধে পরিবহন মালিকদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বাস ও মিনিবাসের ভেতরে যাত্রীদের সহজে দৃশ্যমান হয় এমন স্থানে বাধ্যতামূলকভাবে নতুন ভাড়ার তালিকা প্রদর্শন করার নির্দেশ দিয়েছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এই নিয়ম অমান্য করলে বা দৃশ্যমান স্থানে তালিকা না টাঙালে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।
এর আগে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) সিটি সার্ভিস বা নগর পরিবহনে কিলোমিটারপ্রতি ১৮ পয়সা এবং দূরপাল্লার যানে ২০ পয়সা ভাড়া বাড়ানোর প্রাথমিক প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে সব পক্ষের মতামত ও সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপনে তিন ক্যাটাগরির ক্ষেত্রেই কিলোমিটারপ্রতি ১৭ পয়সা করে ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করা হয়।