দেশের বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে জলপথেও। জ্বালানি তেলের লাগামহীন দাম ও সামগ্রিক পরিচালন ব্যয় বৃদ্ধির বাস্তবতায় এবার যাত্রীসাধারণের জন্য লঞ্চের নতুন ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। ফলে নৌপথে যাতায়াতকারী সাধারণ মানুষকে এখন থেকে বাড়তি অর্থ গুনতে হবে।
বুধবার দুপুরে সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এক দ্বিপাক্ষিক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম লঞ্চের ভাড়া বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেন। নতুন নির্ধারিত হার অনুযায়ী, প্রথম ১০০ কিলোমিটার দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারে ২৩ পয়সা এবং ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের যাত্রায় প্রতি কিলোমিটারে ২০ পয়সা ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর পাশাপাশি জলপথের সর্বনিম্ন ভাড়াও কিছুটা সমন্বয় করা হয়েছে, যা এতদিন ৩২ টাকা থাকলেও বর্তমানে তা বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে নৌপরিবহনমন্ত্রী জানান, সার্বিক পরিস্থিতি ও ব্যবস্থাপনার খরচ বৃদ্ধির যুক্তি দেখিয়ে নৌযান মালিকপক্ষ প্রাথমিকভাবে ১৫ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর দাবি উত্থাপন করেছিল। তবে সাধারণ যাত্রীদের কথা ও সার্বিক জনদুর্ভোগের বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করে সরকার মাত্র ৭ দশমিক ৫৪ শতাংশ ভাড়া বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, এই সংকটময় সময়ে ভাড়া বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাঙ্ক্ষিত নয়, তবে বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ ছিল না। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে জানান, তেলের দাম বৃদ্ধির এই সুযোগ নিয়ে কেউ যাতে কৃত্রিম নৈরাজ্য বা অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করে স্বেচ্ছাচারিতা চালাতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।
এদিকে সিএনজিচালিত যানবাহনের ক্ষেত্রে কোনো ভাড়া পরিবর্তনের সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন মন্ত্রী। কারণ হিসেবে তিনি জানান, সিএনজির দাম অপরিবর্তিত থাকায় এসব যানবাহনের ভাড়া বাড়ানোর কোনো আইনি বা যৌক্তিক ভিত্তি নেই। যদি কোনো পরিবহন বা জলপথে যাত্রীদের কাছ থেকে নির্ধারিত পরিমাণের চেয়ে বাড়তি ভাড়া আদায় করা হয়, তবে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
অপরদিকে লঞ্চের নতুন ভাড়া নির্ধারণ ও সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সভাপতি গোলাম নবী আলমগীর। তিনি জানান, মালিকপক্ষের প্রস্তাব আরও কিছুটা বেশি থাকলেও দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা ও সার্বিক দিক বিবেচনা করে তারা সরকারের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছেন। নতুন এই সমন্বয়ের ফলে প্রথম ১০০ কিলোমিটারের ক্ষেত্রে লঞ্চের প্রতি কিলোমিটার ভাড়া ২ টাকা ৯৫ পয়সা থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ টাকা ১৮ পয়সায়। অন্যদিকে, ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বের ক্ষেত্রে প্রতি কিলোমিটারের ভাড়া ২ টাকা ৫২ পয়সা থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ২ টাকা ৭২ পয়সায় নির্ধারিত হয়েছে। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, নতুন এই ভাড়া কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে নৌপথের যাতায়াত খরচে পরিবর্তন আসবে এবং যাত্রীদের দৈনন্দিন যাতায়াত খরচে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।