ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহায়তা করলে বিমানবন্দরগুলো লক্ষ্যবস্তু হবে: ইরান


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:২৬ পিএম

ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে আরোপিত একতরফা ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার জবাবে অত্যন্ত কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তেহরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান নির্বাহী এবং অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল মোহসিন রেজায়ী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন যে, প্রতিবেশী দেশগুলো যদি মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের সহযোগিতা করে, তবে তাদের নিজস্ব বিমানবন্দর ও ফ্লাইটগুলোও ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। গত বৃহস্পতিবার ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এই কঠোর সতর্কবার্তা উচ্চারণ করেন, যা আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।


মোহসিন রেজায়ী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে উল্লেখ করেন, যদি পার্শ্ববর্তী দেশগুলো ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল বন্ধের ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে সহায়তা করে, সেক্ষেত্রে তেহরান হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। তিনি নিশ্চিত করে বলেন যে, ওই দেশগুলোর বিমানবন্দরগুলো তখন আর কার্যকর বা নিরাপদ থাকবে না এবং এর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে একটি বড় অর্থনৈতিক যুদ্ধাভিযান ঘোষণা করেছিলেন, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’।


সেই ধারাবাহিকতায় গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এক ঘোষণায় জানান যে, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে ইরানের বৈশ্বিক বিমান পরিষেবা সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি স্পষ্ট করেছিলেন যে, ওই তারিখ থেকে কোনো ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থার উড়োজাহাজ যদি বিদেশের কোনো বিমানবন্দরে অবতরণ করে, তবে তারা কোনো ধরনের জ্বালানি বা ল্যান্ডিং পরিষেবা পাবে না এবং কোনো বিদেশি বিমানবন্দরে ইরানি বিমানের টিকিটও বিক্রি করা যাবে না। পাশাপাশি, কোনো দেশ যদি এই নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহযোগিতা না করে, তবে তাদেরও কঠোর পরিণাম ভোগ করতে হবে বলে হুমকি দিয়েছিলেন স্কট বেসেন্ট।


মার্কিন এই নিষেধাজ্ঞার নেতিবাচক প্রভাব ইতোমধ্যে ইরানের আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর ওপর সরাসরি পড়তে শুরু করেছে। ইরাক ও ওমানের সরকার ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর ওপর আকস্মিক বিধিসনিষেধ আরোপ করায় ইরান বাধ্য হয়ে বাগদাদ ও মাস্কাটগামী তাদের গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইটগুলো স্থগিত করেছে।


ইরানি বিমান কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বাগদাদগামী ফ্লাইটগুলোর গন্তব্য পরিবর্তন করে বিকল্প হিসেবে সেগুলোকে নাজাফ বিমানবন্দরে পাঠানোর জোরালো ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এছাড়া আঞ্চলিক অন্যান্য রুটেও বিমান চলাচলেও বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে। ইরানের অন্যতম প্রধান ও শীর্ষস্থানীয় বিমান সংস্থা ‘মাহান এয়ার’ ইস্তাম্বুল, আঙ্কারা এবং মাস্কাটগামী তাদের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট চলাচল সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে। তবে এই অচলাবস্থার প্রভাব সব দেশের ক্ষেত্রে সমানভাবে পড়ছে না; বিশেষ করে চীন এবং তুরস্কের কিছু নির্দিষ্ট গন্তব্যে ইরানি ফ্লাইট চলাচল এখনও স্বাভাবিক রয়েছে।


বর্তমান এই জটিল পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক বিমানবন্দর ও বিমান সংস্থাগুলো এক চরম ও কঠিন সংকটের মুখে পড়েছে। একদিকে ইরানি বিমান পরিষেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্ক বজায় রাখা এবং অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কঠোর ঝুঁকির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা—উভয় সংকটের মাঝে পড়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছে। এমতাবস্থায় তেহরান প্রতিবেশী দেশগুলোকে অত্যন্ত জোরালোভাবে সতর্ক করে দিয়েছে যে, তাদের ফ্লাইটের ওপর কোনো ধরনের অযৌক্তিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে ইরান তার পাল্টা জবাব দিতে পিছপা হবে না। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি এবং ফার্স্টপোস্টের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর