ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

কৃষিখাতে শ্রমিক সংকট কাটাতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভিসা দেবে অস্ট্রেলিয়া


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:৩০ পিএম

কৃষিখাতে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা তীব্র শ্রমিক সংকট দ্রুত নিরসনের লক্ষ্যে বিদেশি কৃষি শ্রমিকদের অত্যন্ত অগ্রাধিকার ভিত্তিতে অস্থায়ী ভিসা প্রদানের এক যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির শীর্ষস্থানীয় শস্য উৎপাদনকারী ও কৃষকদের প্রতিনিধিত্বকারী সংস্থা ‘গ্রেইন প্রোডিউসার অস্ট্রেলিয়া’ বা জিপিএ গত বৃহস্পতিবার এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতির মাধ্যমে এই ইতিবাচক সিদ্ধান্তের কথা গণমাধ্যমকে জানিয়েছে। অস্ট্রেলিয়া বর্তমান বিশ্বে গম, যব এবং সরিষার অন্যতম বৃহৎ ও প্রধান উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিত। বর্তমানে এই গুরুত্বপূর্ণ তিন ফসলের ভরা মৌসুম চলছে এবং আগামী মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই দেশটির অধিকাংশ খামারে সোনালী ফসল তোলা কিংবা মাঠ থেকে কর্তনের মূল কর্মযজ্ঞ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে।


সাধারণত প্রতিটি বছর ফসল বপন এবং পরবর্তীতে তা কর্তনের চূড়ান্ত সময়ে অস্ট্রেলিয়ার বিস্তীর্ণ খামারগুলোতে প্রচুর পরিমাণ দক্ষ ও অদক্ষ শ্রমিকের জরুরি প্রয়োজন পড়ে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে ব্যাপক ও মারাত্মক সংকট শুরু হওয়ায় এবারের মৌসুমে খামারের প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করার জন্য পর্যাপ্ত কৃষি শ্রমিক আদৌ পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে চরম উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছিলেন দেশটির শস্য উৎপাদনকারী ও খামার মালিকরা।


উৎপাদনকারীদের এই গভীর উদ্বেগ ও আশঙ্কা নিরসনের জন্যই অস্ট্রেলিয়া সরকার এই বিশেষ ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জিপিএ তাদের বিবৃতিতে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেছে। গ্রেইন প্রোডিউসার অস্ট্রেলিয়ার চেয়ারম্যান ম্যাথিউ ম্যাডেন এক প্রতিক্রিয়ায় জানিয়েছেন যে, এটি একটি চমৎকার সমাধান এবং কৃষকদের এই সংকট থেকে রক্ষা করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমরা সরকারের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি। তবে তিনি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে এও উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমান এই সরকারি প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কতটা ফলপ্রসূ ও কার্যকর প্রমাণিত হবে, তা সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করছে সরকার ঠিক কত জন বিদেশি শ্রমিককে ভিসা প্রদান করে এবং কত দ্রুত এই ভিসা আবেদনপত্রগুলোর প্রক্রিয়াকরণের কাজ সফলভাবে শেষ করতে পারে তার ওপর।


ম্যাডেন আরও যোগ করে বলেন যে, নীতিগতভাবে প্রক্রিয়াটি বাস্তবে কীভাবে কাজ করে তা আমরা মাঠপর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করব; তবে সবকিছুর পরও সবচেয়ে আশার কথা হলো, চলমান এই সংকটময় ফসল তোলার মৌসুমে প্রয়োজনীয় ও জরুরি কৃষি কর্মীদের দ্রুত অস্ট্রেলিয়ায় নিয়ে আসার একটি সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর উপায় এখন দেশের চাষীদের হাতে এসে পৌঁছাল। সরকারের পক্ষ থেকে গৃহীত এই নতুন পদক্ষেপে ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্দিষ্টভাবে তিন মাসের একটি সময়সীমা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে এবং এর পাশাপাশি ভিসা চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির সুযোগ কিছুটা সীমিত রাখা হয়েছে।


কৃষি খাতের বিভিন্ন শীর্ষ সংগঠন জানিয়েছে যে, এর আগে ‘ওয়ার্কিং হলিডে মেকার’ বা ডব্লিউএইচএম ভিসার আবেদন প্রক্রিয়াকরণের জন্য নির্ধারিত সময়সীমা মাত্র কয়েক দিন থেকে দীর্ঘায়িত হতে হতে বর্তমানে কয়েক মাসে গিয়ে ঠেকেছিল। মূলত খামার ও গ্রামীণ অঞ্চলের বিভিন্ন ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের তীব্র শ্রমচাহিদা দ্রুত মেটানোর জন্যই সরকার এই বিশেষ ওয়ার্কিং হলিডে ভিসা প্রকল্প চালু করেছিল।


এদিকে দেশটির স্বরাষ্ট্র বিভাগের একজন দায়িত্বশীল মুখপাত্র অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন বা এবিসিকে (ABC) নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, তারা ‘ন্যাশনাল ফার্মার্স ফেডারেশন’-এর সঙ্গে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠভাবে যৌথভাবে কাজ করে এমন সব দক্ষ কর্মীদের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকার দেবেন— যারা ইতোমধ্যেই কৃষিকাজে অত্যন্ত দক্ষ, যথাসময়ে ওয়ার্কিং হলিডে ভিসার জন্য আবেদনপত্র জমা দিয়েছেন এবং সংশ্লিষ্ট নিয়োগকর্তার সঙ্গে একটি বৈধ চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। বিশ্ববাজারের চাহিদা মিটিয়ে শস্য উৎপাদন অব্যাহত রাখতে অস্ট্রেলিয়া সরকারের এই ত্বরিত সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক কৃষি অর্থনীতিতে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর ও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে, যা অস্ট্রেলিয়ার কৃষিখাতে এক নতুন গতির সঞ্চার করবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর