ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,  ১০ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ইমরান সমর্থকদের মিছিল ঠেকাতে ইসলামাবাদ লকডাউন ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ৯ হাজার মুখোশসহ যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন: জাতিসংঘের বাইরে ম্যানহাটনজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহুর ভাষণ বর্জন করল ৭৭টি দেশ বিয়ের জন্য ১২ ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি, ফের কারাগারে বর নতুন পে স্কেলে পেনশন নির্ধারণ নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনা ইউক্রেনের সামরিক সহায়তায় ৬.৬ বিলিয়ন ইউরো দিচ্ছে ইইউ রাজবাড়ীতে ফেসবুক স্ট্যাটাস ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল বাবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি চাকরিজীবীরা পাবেন টানা সাত দিনের ছুটি নাহিদ-হাসনাত-সারজিস একসময় ছাত্রলীগ করতো: মীর শাহে আলম

দ্রুত আলোচনার মাধ্যমে ইরান যুদ্ধ শেষ করার আহ্বান জানালেন শি জিনপিং


  • আপলোড সময় : শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ৫:৪৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হোয়াইট হাউজে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে এক জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অত্যন্ত উষ্ণ অভ্যর্থনা জানিয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই উচ্চপর্যায়ের আয়োজনে দুই দেশের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েন আড়াল করার নানামুখী আনুষ্ঠানিকতা থাকলেও বিশ্বরাজনীতির অন্যতম সংবেদনশীল ইস্যু বাণিজ্য, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), তাইওয়ান এবং চলমান ইরান যুদ্ধ নিয়ে দুই পরাশক্তির সুস্পষ্ট মতপার্থক্য ও অবস্থান পরিষ্কার হয়েছে। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপির বিশেষ প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।


ঐতিহাসিক এই রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে মার্কিন প্রযুক্তির শীর্ষ ব্যক্তিত্বদের সরব উপস্থিতি বিশ্ববাসীর নজর কেড়েছে। আমন্ত্রিত অতিথিদের তালিকায় টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক, এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং এবং ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যানের মতো প্রযুক্তি জায়ান্টরা উপস্থিত ছিলেন। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে চীনের শীর্ষ নেতার এই সফরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো আধুনিক প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়টি যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা এই বিশিষ্ট অতিথিদের উপস্থিতি থেকেই স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তবে হোয়াইট হাউজের ভেতরের জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের বাইরে ভিন্ন চিত্রও দেখা গেছে। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প যখন শি জিনপিং ও তাঁর স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে হোয়াইট হাউজে স্বাগত জানাচ্ছিলেন, তখন বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন একদল অধিকারকর্মী। তারা ‘শি জিনপিং স্বাগত নন’ এবং ‘ফ্রি হংকং’সহ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবাদী স্লোগান দিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।


এর আগে দিনভর চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে ঘিরে নানা আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। হোয়াইট হাউজের প্রাঙ্গণে জমকালো সামরিক কুচকাওয়াজ, যুদ্ধবিমানের দৃষ্টিনন্দন ফ্লাইওভার প্রদর্শন এবং নতুন হেলিপ্যাড পরিদর্শনসহ বিভিন্ন আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় অতিথিকে সম্মান জানানো হয়। নৈশভোজের প্রাক্কালে দেওয়া বক্তব্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান যে, শি জিনপিংয়ের সঙ্গে আজকের বৈঠকে ‘বড় ধরনের অগ্রগতি’ সাধিত হয়েছে। দুই দেশ সম্পূর্ণ ভিন্ন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করলেও দুই দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় রয়েছে বলেও তিনি ইতিবাচক মন্তব্য করেন। এর বিপরীতে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং তুলনামূলক সংযত ও সুচিন্তিত বক্তব্য প্রদান করেন। চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ন্ত্রণ, তাইওয়ান সংকটের সুরাহা এবং ইরান যুদ্ধ বন্ধের ক্ষেত্রে বেইজিংয়ের সুনির্দিষ্ট ও জোরালো অবস্থান তুলে ধরেন। শি জিনপিং অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, বর্তমান বিশ্বে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রকে অবশ্যই দুটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল বৃহৎ দেশ হিসেবে নিজেদের ভূমিকা পালন করতে হবে।


নৈশভোজের একপর্যায়ে দুই নেতার সৌহার্দ্য বিনিময়ের অংশ হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনা প্রেসিডেন্টকে দেশটির জাতীয় প্রতীক হিসেবে পরিচিত টাকমাথা ঈগলের একটি বিশেষভাবে কারুকার্যখচিত ও দৃষ্টিনন্দন মূর্তি উপহার দেন। পাশাপাশি আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিদের জন্য মুখরোচক ও ঐতিহ্যবাহী খাবারের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছিল। দুই দেশের এই শীর্ষ বৈঠকে বাণিজ্য ইস্যু অন্যতম প্রধান আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। ইতিপূর্বে বাণিজ্যিক উত্তেজনা ও শুল্কযুদ্ধ কমাতে দুই দেশ যে সাময়িক সমঝোতায় পৌঁছেছিল, তার মেয়াদ আরও দুই মাস বাড়িয়ে আগামী জানুয়ারি পর্যন্ত করার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে চীন সরকারের পক্ষ থেকে এই সমঝোতার মেয়াদ দীর্ঘ দুই বছর বাড়ানোর যে জোরালো আশা করা হয়েছিল, মার্কিন প্রশাসনের অনমনীয়তার কারণে তা শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়িত হয়নি।


ওভাল অফিসে অনুষ্ঠিত একান্ত ও আনুষ্ঠানিক বৈঠকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে অত্যন্ত কঠোরভাবে সতর্ক করে বলেন যে, যুক্তরাষ্ট্রকে যেকোনো মূল্যে তাইওয়ানের স্বাধীনতার যেকোনো অপচেষ্টার বিরোধিতা করতে হবে এবং এই সংবেদনশীল বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে হবে। উল্লেখ্য, গণতান্ত্রিক দ্বীপরাষ্ট্র তাইওয়ানকে নিজেদের অবিচ্ছেদ্য ভূখণ্ড হিসেবে দাবি করে আসছে বেইজিং। বর্তমান যুগের সবচেয়ে আলোচিত প্রযুক্তি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রসঙ্গে শি জিনপিং দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে বলেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তি যেন কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং এটি সবসময় মানবজাতির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে থাকাতে হবে। এর আগে ট্রাম্প কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য নানামুখী ঝুঁকি ও ভীতিকে তুলনামূলক কম গুরুত্ব দিয়ে এড়িয়ে গেছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা রয়েছে।


বৈঠকের আরেকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দিক ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট। শি জিনপিং আন্তর্জাতিক কূটনীতির মাধ্যমে খুব দ্রুত আলোচনার টেবিলে বসে ইরান যুদ্ধ অবিলম্বে শেষ করার জোরালো আহ্বান জানান। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গোয়েন্দা প্রতিবেদন ও বিশ্লেষণে দাবি করা হয়েছে যে, ইরানের সঙ্গে চীনের অত্যন্ত গভীর ও ঘনিষ্ঠ কৌশলগত যোগাযোগ রয়েছে এবং বেইজিং অতীতে তেহরানকে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গোয়েন্দা সহায়তা প্রদান করেছে। বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তার স্বার্থে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের দ্রুত অবসান অত্যন্ত জরুরি বলে শি জিনপিং তাঁর বক্তব্যে পুনর্ব্যক্ত করেন। বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে ট্রাম্প ও শির এই ঐতিহাসিক বৈঠক এবং নৈশভোজের নানা দিক আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্ববাসীর ধারণা।


এ সম্পর্কিত আরো খবর