ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করল সরকার নভেম্বর মাসে অপরিবর্তিত থাকছে সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম সহধর্মিণীকে নিয়ে টয়োটার প্রথম ঐতিহাসিক গাড়িতে উঠলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাউফলে জনস্বাস্থ্য দপ্তরের সামনেই ময়লার ভাগাড় রিজভী অসত্য তথ্য দিয়ে জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন: গোলাম পরওয়ার ঠাকুরগাঁওয়ে ভোট জালিয়াতি ও হানাহানিহীন নির্বাচন হয়েছে: রিজভী ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ৬৬ কেন্দ্রে বিশাল ব্যবধানে এগিয়ে ধানের শীষ টোকিওতে প্রধানমন্ত্রীর ফিরতি ফ্লাইটে যান্ত্রিক ত্রুটি, যাত্রায় বিলম্ব ঐক্য সরকার নাকি আবার নির্বাচন? ইসরায়েলের সামনে এখন ৩টি পথ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শেষ, চলছে গণনা

কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত ছাড়াল আট হাজার, সংকটে কনট্যাক্ট ট্রেসিং


  • আপলোড সময় : মঙ্গলবার ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সময় : ১০:১২ এএম

কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্রে (ডি আর কঙ্গো) ইবোলা ভাইরাসের সংক্রমণ ফের অত্যন্ত উদ্বেগজনক রূপ ধারণ করেছে। চিকিৎসা কেন্দ্রের বাইরে রোগীর মৃত্যু এবং কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শ শনাক্তকরণে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে স্বাস্থ্যঝুঁকি মারাত্মক আকার ধারণ করেছে এবং পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিস্থিতি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৬৭ জনে। এর মধ্যে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৯০১ জন। বর্তমানে রোগটিতে মৃত্যুর হার বা কেস ফেটালিটি রেট দাঁড়িয়েছে ৪৮.৪ শতাংশে। এই ভয়ংকর মহামারী দেশটির সাতটি প্রদেশের মোট ৬৩টি স্বাস্থ্য জোনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করেছে। আক্রান্ত প্রদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে হাত-উয়েলে, ইতুরি, উত্তর কিভু, দক্ষিণ কিভু, বাস-উয়েলে, চপোপো এবং দক্ষিণ-উবাঙ্গি।


পরিসংখ্যান বলছে, ইতুরি প্রদেশটি এখনও এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হিসেবে রয়েছে, যেখানে মোট সংক্রমণের ৭৬.৪ শতাংশ ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নতুন মৃত ব্যক্তিদের বড় একটি অংশই সময়মতো চিকিৎসা কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারেনি; বরং ইতুরি ও উত্তর কিভু অঞ্চলে রোগ নির্ণয় ও শনাক্তকরণে নানা চ্যালেঞ্জের কারণে তারা সমাজের মধ্যেই মারা গেছেন। এছাড়া, সংক্রামক রোগ মোকাবেলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার কন্টাক্ট ট্রেসিং বা সংস্পর্শ শনাক্তকরণের হার পূর্বের ৮৩.৪ শতাংশ থেকে কমে বর্তমানে ৭৯.২ শতাংশে নেমে এসেছে, যা সংক্রমণের দ্রুত বিস্তারকে আরও ত্বরান্বিত করছে।


প্রতিবেদনটিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাত-উয়েলে প্রদেশে ভাইরাসের সংক্রমণ এখনও অবিরামভাবে অব্যাহত রয়েছে, অন্যদিকে চপোপো প্রদেশে নতুন করে এই ভাইরাসের পুনরুত্থান রেকর্ড করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) তাদের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলেছে যে, দক্ষিণ উবাঙ্গি এবং হাত-উয়েলের নতুন অঞ্চলগুলোতে ভাইরাসের ভৌগোলিক বিস্তার আন্তঃসীমান্ত সংক্রমণের ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দিয়েছে। সংস্থাটি আরও জোর দিয়ে বলেছে যে, ক্রমবর্ধমান মৃত্যুর অনুপাত এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে মৃত্যুর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এই মারাত্মক রোগের ভয়াবহতাকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।


এদিকে, আফ্রিকা সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র আফ্রিকা অঞ্চলে ইবোলা মহামারী মোকাবিলা ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ২ দশমিক ৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার তহবিল সংগ্রহ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অবিলম্বে কনটাক্ট ট্রেসিংয়ের ঘাটতি দূর করা না গেলে এবং চিকিৎসাকেন্দ্রের বাইরে মৃত্যু রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া না গেলে এই মহামারীর বিস্তার রোধ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে।



এ সম্পর্কিত আরো খবর