ঢাকা, বাংলাদেশ ।
  বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬,  ১৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: বিপুল ভোটে জয়ী বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীন ১৪ বছর পর পর্দায় ফিরেই তোলপাড়, দেব-শুভশ্রীর রসায়নে নতুন গুঞ্জন টলিপাড়ায় চট্টগ্রাম বন্দরে পাকিস্তান থেকে আসা ৪৯৪ কোটি টাকার তামাক আটক পাকিস্তানে অ্যাম্বুলেন্সে সিলিন্ডার বিস্ফোরণ, অন্তঃসত্ত্বা নারীসহ নিহত ৯ সখীপুরে মাটির নিচে মিলল দুটি বাক্স, উদ্ধার রকেট লঞ্চারসদৃশ ১২ বস্তু মদ ও সিগারেটের প্রলোভনে কিশোরকে বারবার যৌন নির্যাতন আমরা অবশ্যই এই ভোট নিয়ে সন্তুষ্ট: ইসি সচিব আখতার আহমেদ আন্দোলনে সহিংসতায় জড়ালে মিলবে না সরকারি চাকরি: ভারতের নতুন নীতি হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের ‘স্পাই ড্রোন’ আটক করল ইরান এআই দেখে বিষাক্ত মদ তৈরি: ভারতে ১৩ জনের মৃত্যু

ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ন্ত্রণে নতুন বিধিমালা জারি করল সরকার


  • আপলোড সময় : বৃহস্পতিবার ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ সময় : ৮:০৬ পিএম

সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা বা ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি যুগান্তকারী ও নতুন বিধিমালা জারি করেছে সরকার। নতুন এই নিয়মে ই-রিকশার নিবন্ধন ও বার্ষিক নবায়ন ফি, সর্বোচ্চ গতিসীমা, যাত্রী ধারণক্ষমতা, চলাচলের নির্দিষ্ট রুট, জোনভিত্তিক রং, পার্কিং এবং ব্যাটারি চার্জিং ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কঠোর ও বিভিন্ন নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।


পাশাপাশি নিবন্ধন ছাড়া ই-রিকশা চালানো, নির্ধারিত গতিসীমা লঙ্ঘন, অতিরিক্ত যাত্রী বহন এবং মহাসড়কসহ নিষিদ্ধ সড়কে চলাচলকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে স্পষ্ট উল্লেখ করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে। ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’ নামে জারি করা এই নতুন বিধিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।


নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আকারভেদে দুই যাত্রী ধারণক্ষমতার একটি ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ৮ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অন্যদিকে চার যাত্রী ধারণক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি ১০ হাজার টাকা এবং বার্ষিক নবায়ন ফি ৫ হাজার টাকা। এর পাশাপাশি সব ধরনের ই-রিকশার জন্য বাধ্যতামূলক ফিটনেস সনদের ফি দিতে হবে ১ হাজার টাকা। নিবন্ধন পেতে চালক বা মালিককে জাতীয় পরিচয়পত্রের সত্যায়িত অনুলিপি, দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, ফি জমার রসিদ এবং নির্ধারিত ফিটনেস সনদসহ নির্দিষ্ট ফরমে আবেদন করতে হবে।


আবেদন পাওয়ার পর কর্তৃপক্ষ সবকিছু যাচাই-বাছাই করে সন্তুষ্ট হলে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে নিবন্ধন সম্পন্ন করবে। কোনো আবেদন প্রত্যাখ্যান করা হলে ৭ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত কারণ জানাতে হবে এবং এর বিরুদ্ধে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে উচ্চপর্যায়ে আপিল করার সুযোগও রাখা হয়েছে। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে একটি কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নিবন্ধন নম্বর, নম্বর প্লেট ও বিস্তারিত তথ্যসংবলিত ব্লু-বুক দেওয়া হবে, যার মেয়াদ হবে ৫ বছর। একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ৫টি ই-রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এক সিটি করপোরেশনে নিবন্ধিত ই-রিকশা অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে চালানো যাবে না।


নিরাপত্তার স্বার্থে বিধিমালায় ই-রিকশার সর্বোচ্চ গতিসীমা ঘণ্টায় ২৫ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে স্কুল, হাসপাতাল, ধর্মীয় উপাসনালয় ও জনবহুল এলাকায় এই গতিসীমা কমিয়ে সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার করা হয়েছে। চালক ছাড়া রিকশার আকার অনুযায়ী সর্বোচ্চ দুই বা চারজন যাত্রী বহন করা যাবে এবং যাত্রীর হাতে বহনযোগ্য মালামাল ছাড়া অন্য কোনো বাণিজ্যিক পণ্য পরিবহন করা যাবে না। এছাড়া হর্নের শব্দের তীব্রতা ৪০ ডেসিবেলের মধ্যে সীমিত রাখতে হবে।


ই-রিকশাগুলো কোনোভাবেই জাতীয় মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিআরটি করিডোর, প্রশাসনের নিষিদ্ধ ঘোষিত সড়ক ও ফুটপাতে চলাচল করতে পারবে না। চালকদের কঠোরভাবে সড়কের বাম লেন অনুসরণ করতে হবে এবং গাড়ি চালানোর সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার, নিয়মবহির্ভূত ওভারটেকিং ও হঠাৎ লেন পরিবর্তন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। চলাচল নিয়ন্ত্রণে সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ যৌথভাবে রুট ও জোন নির্ধারণ করবে। নির্দিষ্ট জোনের বাইরে অন্য জোনে ই-রিকশা চালানো যাবে না এবং প্রতিটি ওয়ার্ডে পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে।


এ সম্পর্কিত আরো খবর