জাপানে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরের অংশ হিসেবে দেশটির নাগোয়া শহরে অবস্থিত বিশ্বখ্যাত গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টয়োটার ঐতিহাসিক কারখানা ও সংগ্রহশালা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাপানের স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ১০টায় তিনি উচ্চপর্যায়ের সফরসঙ্গীদের নিয়ে এই কারখানা পরিদর্শনে যান। পরিদর্শনকালে টয়োটা ব্র্যান্ডের উৎপাদিত ইতিহাসের সর্বপ্রথম যাত্রীবাহী প্রাইভেট কারটি অত্যন্ত আগ্রহের সাথে দেখেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী কারখানায় পৌঁছালে টয়োটার শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তারা তাঁকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। এ সময় কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে টয়োটার ইতিহাসের প্রথম উৎপাদিত সেই বিশেষ গাড়িটিতে বসার আমন্ত্রণ জানান। পরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে অত্যন্ত প্রফুল্ল মুডে ঐতিহাসিক ওই গাড়িটিতে ওঠেন এবং কিছু সময় অতিবাহিত করেন।
ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ১৯৩৫ সালে টয়োডা পরিবারের হাত ধরে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম গাড়ির প্রোটোটাইপ ‘টয়োডা মডেল এ১’ (Toyoda Model A1) তৈরি করা হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৩৬ সালে বাণিজ্যিকভাবে তৈরি হয় ‘টয়োডা মডেল এএ’ (Toyoda Model AA), যা ছিল টয়োটা কোম্পানির ইতিহাসে উৎপাদিত সর্বপ্রথম যাত্রীবাহী প্রাইভেট কার। বর্তমানে এই আদি ও ঐতিহাসিক গাড়িটির একটি নিখুঁত প্রতিরূপ বা রেপ্লিকা জাপানের নাগোয়া শহরে অবস্থিত টয়োটা সংগ্রহশালায় অত্যন্ত যত্নসহকারে সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে, যা বিশ্বজুড়ে গাড়িপ্রেমীদের কাছে অন্যতম এক আকর্ষণ।
জাপানি এই গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের নামকরণের পেছনে একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। বিশ্বখ্যাত এই প্রতিষ্ঠানের মূল প্রতিষ্ঠাতার পারিবারিক নাম ছিল আসলে ‘টয়োডা’ (Toyoda)। তবে পরবর্তীতে বাণিজ্যিক ও ব্র্যান্ডিংয়ের সুবিধার কথা বিবেচনা করে প্রতিষ্ঠানটির ব্র্যান্ডের নাম সামান্য পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘টয়োটা’ (Toyota)। টয়োটার নিজস্ব নথিবদ্ধ ইতিহাস অনুযায়ী, ১৯৩৬ সালে লোগো ডিজাইন ও নামকরণের সহজ বোধ্যতার কারণে ‘টয়োডা’ থেকে ব্র্যান্ডের নাম পরিবর্তন করে আনুষ্ঠানিক ও চূড়ান্তভাবে ‘টয়োটা’ করা হয়েছিল।
জাপানের নতুন প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বিশেষ আমন্ত্রণে গত ২৬ অক্টোবর টোকিও পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। চার দিনের এই দ্বিপক্ষীয় রাষ্ট্রীয় সফরে দুই দেশের বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নে নানা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। সফল এই সফর শেষে আজই প্রধানমন্ত্রীর ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে।